ভোটের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতি কতটা নিরপেক্ষ থাকা উচিত এই প্রশ্নটাই যেন নতুন করে সামনে চলে এল নদিয়ার রানাঘাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রস্তুতির গতি। কিন্তু সেই প্রস্তুতির মাঝেই যদি রাজনৈতিক রং ঢুকে পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের ভরসা কোথায় দাঁড়াবে? ঠিক এই প্রশ্ন নিয়েই এখন সরগরম স্থানীয় মহল।
শুক্রবার রানাঘাটের একটি স্কুলে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বহু সরকারি কর্মী। অভিযোগ, সেই শিবিরে জায়েন্ট স্ক্রিনে মুখ্যমন্ত্রীর প্রচারের ভিডিও দেখানো হচ্ছিল। প্রথমে অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও, এক পর্যায়ে আপত্তি তোলেন সৈকত দাস নামে এক ভোটকর্মী। তাঁর দাবি, এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতার পরিপন্থী। তাঁর পাশে দাঁড়ান আরও কয়েকজন কর্মী। এখান থেকেই শুরু হয় উত্তেজনা।
অভিযোগ অনুযায়ী, আপত্তি তোলার পরই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বিডিও অফিসের কিছু কর্মী সৈকত দাসের উপর চড়াও হন বলে দাবি। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়, এমনকি খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে পরে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক পৌঁছন এবং দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে একজন ভোটকর্মী যদি নিজের মত প্রকাশ করেন, তবে কি তার এমন পরিণতি হওয়া উচিত?
আক্রান্ত কর্মীর দাবি, তিনি এই বিষয়টি বিডিও-কে আগেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে তাঁর মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে জানাবেন। এখানেই আরও একটি প্রশ্ন উঠে আসে যেখানে প্রশাসনের উপর ভরসা করার কথা, সেখানে যদি অভিযোগ শুনেই কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে সাধারণ কর্মীরা কার কাছে যাবেন?
আরও পড়ুনঃ S. Jaishankar : পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক, ‘দালাল দেশ’ মন্তব্যে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের, ভারত কি ইচ্ছাকৃতভাবেই দূরে থাকছে, নাকি কূটনৈতিক কৌশলেই এই অবস্থান?
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, প্রশাসন নিরপেক্ষ না থেকে শাসক দলের হয়ে কাজ করছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে ভোটের প্রশিক্ষণ কি শুধুই প্রক্রিয়া শেখানোর জায়গা, নাকি সেখানে রাজনৈতিক প্রভাবও ঢুকে পড়ছে? আর যদি এমনটাই হয়ে থাকে, তাহলে আসন্ন নির্বাচনে নিরপেক্ষতার নিশ্চয়তা কোথায়? এই ঘটনার পর সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি সামনে আসছে, তা হল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিজের মত প্রকাশ করা কি অপরাধ?





