নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তাপ। রাজনীতির ময়দানে এখন শুধু বিরোধী দলের সঙ্গে লড়াই নয়, দলীয় অন্দরেও অসন্তোষ বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে। বিশেষ করে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় সমর্থকদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসছে। সেই পরিস্থিতিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরের সামনে।
প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে ক্ষোভ-বিক্ষোভ শুরু হয়। কোথাও মিছিল, কোথাও আবার সরাসরি দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝোলানোর মতো ঘটনাও সামনে আসে। স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের একাংশের দাবি, তাঁদের মতামত উপেক্ষা করেই প্রার্থী বেছে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে ভোটের আগে দলীয় সংগঠনে ভাঙন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই চাপের মুখেই শেষ পর্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল বিজেপি। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি কেন্দ্রে প্রথমে কৌশিক রায়কে প্রার্থী করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়দের তীব্র আপত্তির জেরে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ কর্মীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন প্রার্থী বদল না হলে এলাকায় কোনও কাজ করবেন না, এমনকি দল ছাড়ার কথাও শোনা যায়। ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামও দেওয়া হয়েছিল।
পরিস্থিতি বুঝে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে হল দলকে। ময়নাগুড়িতে প্রার্থী বদল করে নতুন মুখ হিসেবে সামনে আনা হল ডালিম রায়কে। এই সিদ্ধান্তে আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও, রাজ্যের অন্য জায়গাগুলিতেও একই ধরনের অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আরও পড়ুনঃ টলিপাড়ার উজ্জ্বল নায়ক মুখে সময়েরই শেষ অনুভব! মৃ’ত্যুর আগের মুহূর্তেও মানুষের সেবার ভাবনা! বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী, প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়, কী জানিয়েছেন আসন্ন নির্বাচন নিয়ে? কাকে দেখতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর আসনে?
এদিকে, একই সঙ্গে আরও ১৩টি কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। চৌরঙ্গীতে সন্তোষ পাঠক, সিতাইয়ে আশুতোষ বর্মা, নাটাবাড়িতে গিরিজাশঙ্কর রায়, বাগদায় সোমা ঠাকুর, মগরাহাট পূর্বে উত্তম কুমার বণিক, ফলতায় দেবাংশু পণ্ডা, সোনারপুর উত্তরে দেবাশিস ধর, হাওড়া দক্ষিণে শ্যামল হাতি, পাঁচলায় রঞ্জনকুমার পাল, চণ্ডীপুরে পীযূষকান্তি দাস, গড়বেতায় প্রদীপ লোধা, মেমারিতে মানব গুহ এবং বারাবনিতে অরিজিৎ রায়ের নাম সামনে এসেছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এই তালিকাও কি শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভের মুখে বদলাবে? এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।






