অস্তাচলে কি তবে লাল সূর্য? বহু দশক ধরে দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকা মাওবাদী সমস্যা নিয়ে এমনই এক দৃঢ় দাবি সামনে আনলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ৩১ মার্চকে সময়সীমা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি জানিয়েছেন, দেশ এখন প্রায় সম্পূর্ণভাবে ‘মাওবাদী মুক্ত’একটি বক্তব্য যা নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
সোমবার লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাম চরমপন্থী সন্ত্রাস বা LWE (Left Wing Extremism) মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে বড় সংখ্যায় মাওবাদী নির্মূল হয়েছে, অনেকে গ্রেফতার হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য অংশ আত্মসমর্পণ করেছে। শুধু তাই নয়, একসময়ের ‘রেড করিডর’ বলে পরিচিত বিস্তীর্ণ এলাকা এখন অনেকটাই সংকুচিত। তেলেঙ্গানা, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড-সহ একাধিক রাজ্যে এই প্রভাব কমেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বস্তার অঞ্চলের উদাহরণ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেখানে একসময় মাওবাদী কার্যকলাপ ছিল প্রবল, সেখানে এখন উন্নয়নের ছোঁয়া স্পষ্ট। রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, বাসস্থান এই মৌলিক পরিষেবাগুলি পৌঁছে দেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের উল্লেখ করে শাহ বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকেই এই পরিবর্তনের গতি বেড়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, আগে কেন এই উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
একইসঙ্গে রাজনৈতিক আক্রমণও শানান শাহ। তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় শাসন করেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি মাওবাদী সমস্যাকে কার্যকরভাবে দমন করতে পারেনি। এমনকি অতীতে এই মতাদর্শকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করার কথাও তিনি ইঙ্গিত করেন। নকশাল আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়ি থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত, যা পরে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়েই মাওবাদীরা তাদের অস্ত্রভাণ্ডার বাড়িয়েছে।
তবে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি আত্মসমর্পণের পথও খোলা রেখেছে কেন্দ্র। শাহ জানান, যারা অস্ত্র ছেড়ে মূলধারায় ফিরতে চান, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু যারা এখনও সহিংসতার পথ বেছে নেবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এই বার্তাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। তাঁর কথায়, “যে বন্দুক তুলবে, তাকে তার মূল্য দিতেই হবে।”
আরও পড়ুনঃ বিজেপির প্রার্থী তালিকায় টানাপোড়েন! বিক্ষো*ভের চাপে বদল প্রার্থী, সামনে এল আরও ১৩ নাম!
শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে যেমন সাফল্যের দাবি, অন্যদিকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক বার্তা দুটোই উঠে এসেছে। মাওবাদী সমস্যার প্রায় অবসান ঘটেছে বলে দাবি করলেও, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য এখনও নজরদারি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





