সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন যেমন বদলাচ্ছে, তেমনই বদলাচ্ছে সম্পর্কের ধরনও। একসময় যে বিবাহিত সম্পর্ক ছিল স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হত, এখন সেখানে ঢুকে পড়েছে নানা টানাপোড়েন। ব্যস্ততা, কাজের চাপ, আর ব্যক্তিগত সময়ের অভাব সব মিলিয়ে অনেক দাম্পত্যেই যেন কোথাও একটা শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। সেই শূন্যতা থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিচ্ছে নতুন ধরনের সম্পর্কের গল্প, যা নিয়ে চর্চাও বাড়ছে সমাজে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের কয়েক বছর পর অনেক দম্পতির মধ্যেই আগের সেই আবেগ আর থাকে না। ছোটখাটো বিষয় নিয়েই শুরু হয় অশান্তি, যা ধীরে ধীরে বড় আকার নেয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই খোঁজেন এমন একজন মানুষকে, যাঁর সঙ্গে নির্ভয়ে নিজের কথা বলা যায়। কিন্তু পরিচিত মহলে সব কথা বলা সম্ভব হয় না, সমালোচনার ভয় থাকে। আর এই জায়গাতেই অনেকের জীবনে প্রবেশ করছে বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপ, যা একধরনের বিকল্প যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি একটি পরকীয়া ভিত্তিক ডেটিং অ্যাপ ‘গ্লিডেন’ (Gleeden)-এর তথ্য সামনে এসেছে, যা এই পরিবর্তনের দিকটিকেই আরও স্পষ্ট করে। জানা যাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে এই অ্যাপের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৪০ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। সংখ্যাটা যতটা বড়, তার থেকেও বেশি চোখে পড়ার মতো বিষয় হল মহিলা ব্যবহারকারীর দ্রুত বৃদ্ধি। গত দুই বছরে এই অ্যাপে মহিলা সাবস্ক্রাইবার বেড়েছে প্রায় ১৪৮ শতাংশ, যা বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
অ্যাপের পরিসংখ্যান বলছে, মোট ব্যবহারকারীদের মধ্যে এখনও প্রায় ৬৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৫ শতাংশ মহিলা। তবে মহিলাদের এই দ্রুত বৃদ্ধি শুধু একাকীত্বের ফল নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দের জায়গা খোঁজার ইচ্ছাকেও তুলে ধরে। শহরভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুতে প্রায় ১৮ শতাংশ মহিলা ব্যবহারকারী রয়েছেন, তার পরেই রয়েছে হায়দরাবাদ। দিল্লিতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ বড় শহরগুলিতেই এই প্রবণতা বেশি স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ নতুন শক্তির পথে ভারত! তৃতীয় পারমাণবিক সাবমেরিনের সঙ্গে নৌবাহিনীতে যুক্ত ‘আইএনএস তারাগিরি’!
এই অ্যাপ ব্যবহারের ধরনেও দেখা যাচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু প্যাটার্ন। বেশিরভাগ ব্যবহারকারী দিনে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় কাটান চ্যাটে, বিশেষ করে দুপুরে ও রাত ১০টার পরে। বয়সের ক্ষেত্রেও রয়েছে আলাদা পছন্দ পুরুষরা সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীদের খোঁজেন, অন্যদিকে মহিলাদের আকর্ষণ থাকে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষদের দিকে। শুধু সম্পর্ক নয়, আর্থিক স্থিতিশীলতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, সম্পর্কের এই নতুন সমীকরণ সমাজে এক নতুন বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করছে, যা নিয়ে আলোচনা আগামী দিনে আরও বাড়বে।






