ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক আবহ যেন দিন দিন আরও ঘন হয়ে উঠছে। একদিকে প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ, সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন আগ্রহ বাড়ছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও চলছে তীব্র কথার লড়াই। এই পরিস্থিতিতে ভোট কতটা নিরপেক্ষ হবে, সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
এই আবহেই কোচবিহারের জনসভা থেকে নরেন্দ্র মোদি নির্বাচন কমিশনের উপর ‘পূর্ণ আস্থা’ রাখার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এ বার বাংলায় নিরপেক্ষ ভোট হবে এবং মানুষ নির্ভয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, তাঁর দাবি, এই ভোট পরিবর্তনের দিকেও এগোবে। তবে এই মন্তব্যের ঠিক বিপরীত সুর শোনা যাচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফে, যেখানে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে মমতা বন্দোপাধ্যায় একাধিকবার নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন। বিশেষ করে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে তাঁর আপত্তি স্পষ্ট। নির্বাচন সদনের উদ্দেশে চিঠি দেওয়া থেকে শুরু করে জনসভায় ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ—সব মিলিয়ে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে শাসকদল। ফলে একদিকে আস্থা, অন্যদিকে অবিশ্বাস এই দ্বন্দ্বই এখন রাজনীতির মূল সুর।
আরও পড়ুনঃ এসআইআর বিতর্কে বড় মোড়! শিবজ্ঞানমের বেঞ্চের নির্দেশে ভোটার তালিকায় নাম ফিরল মহতাবের, নির্বাচনের মুখে কংগ্রেস শিবিরে স্বস্তির হাওয়া!
কোচবিহারের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী শুধু নির্বাচন নিয়েই কথা বলেননি, তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ শানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, এমনকি মালদহের ঘটনাকেও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। পাশাপাশি ‘জনবিন্যাস বদল’ ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও সরব হয়ে তৃণমূলকে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির অভিযোগে কাঠগড়ায় তোলেন।
সবশেষে মহিলাদের ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করেও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলারা আরও স্বনির্ভর হবেন এবং ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রকল্পে মহিলাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলার সংস্কৃতি ও পরিচয় নিয়েও তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন তিনি। সব মিলিয়ে স্পষ্ট একদিকে নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ এই দ্বৈরথের মধ্যেই এগোচ্ছে বাংলা। এখন দেখার, ভোটের ময়দানে শেষ কথা বলে কে এবং সত্যিই কতটা নিরপেক্ষ থাকে নির্বাচন প্রক্রিয়া।





