বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে আবারও চরম উত্তেজনা। একদিকে যুদ্ধ-পরিস্থিতির দীর্ঘ ছায়া, অন্যদিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার মরিয়া চেষ্টা, এই দুইয়ের মাঝখানেই দাঁড়িয়ে রয়েছে ইরান ও আমেরিকার সম্পর্ক। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট, কথোপকথন চলছে ঠিকই, কিন্তু সেই আলোচনা কি আদৌ সমাধানের দিকে এগোচ্ছে? নাকি আরও বড় সংঘাতের দিকেই ধীরে ধীরে এগোচ্ছে পরিস্থিতি এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।
ইসলামাবাদে আয়োজিত শান্তি বৈঠক ঘিরে ছিল গোটা বিশ্বের কড়া নজর। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে বন্ধ ঘরে আলোচনা চালায় ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিদল। ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার কথা মাথায় রেখে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে সমাধানের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও চুক্তিতে পৌঁছনো যায়নি। আমেরিকার পক্ষ থেকে জেডি ভান্স জানান, তারা তাদের ‘রেড লাইন’ স্পষ্ট করেছিল, তবুও ইরান সেই শর্ত মানতে রাজি হয়নি। ফলে কোনও ডিল ছাড়াই ফিরতে হয়েছে তাদের।
বৈঠক ভেস্তে যেতেই সুর চড়িয়েছে তেহরান। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানায়, আমেরিকার কিছু দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং সেই কারণেই আলোচনার অগ্রগতি থমকে যায়। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, একটি বৈঠকেই চূড়ান্ত সমাধান আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে এই মন্তব্যের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে একটি ইঙ্গিত, দরজা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, কিন্তু পরিস্থিতি যে জটিল, তা স্পষ্ট।
এই আলোচনার অন্যতম বড় ইস্যু ছিল হরমুজ় প্রণালী। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পথ নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন করে উত্তেজনা। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনওভাবেই হরমুজ়ের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না। অন্যদিকে আমেরিকার কড়া অবস্থান, এই পথ খুলতেই হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। এমনকি হরমুজ়ে মাইন অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে বলেও খবর মিলেছে, যা ভবিষ্যতের বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: পু’ড়ে গিয়েছিল গোটা পিঠ, ক’ষ্টে গায়ে রাখতে পারছিলেন না জামাও! সেটে ভয়াবহ দুর্ঘ’টনার পরও শুটিং চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন শিল্পা শেট্টি!
এই পরিস্থিতিতে আবারও নতুন করে বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদের তরফে আলোচনা আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হতে পারে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে দুই পক্ষ কি আবার আলোচনায় বসবে? আর বসলেও কোনও সমাধান সূত্র বেরোবে, নাকি আরও তীব্র হবে দ্বন্দ্ব? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টানাপোড়েন দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব বাণিজ্য থেকে শুরু করে জ্বালানি বাজার সব ক্ষেত্রেই বড় প্রভাব পড়তে পারে। এখন গোটা বিশ্বের নজর একটাই পরবর্তী পদক্ষেপ কী নিতে চলেছে ইরান ও আমেরিকা।






