বুধবার দুলে উঠল একাধিক বহুতল, ভুমিকম্প নাকি শুধুই ঝড়?

ভূমিকম্প নাকি শুধুই ঝড়ের দাপটে দুলে উঠল বহুতল বাড়ি! রাজ্যজুড়ে কাল তান্ডব চালালো আমফান। তার জেরে থর থর করে কেঁপে উঠল কলকাতার বহুতল বাড়ি। এমনই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন অনেক বহুতলবাসীরাই। ২০০৯ সালের আয়লা আর ২০১৯ সালে বুলবুলের বিধ্বংসী স্মৃতির কথা এখনও মানুষের মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে, সেসবই যেন আমফানের কাছে নস্যি। এমনই মনে করছেন পূর্ব কলকাতার এক বাসিন্দা। ৬৮ বছর বয়সী তাঁর জীবনের এমন বিধ্বংসী ঝড়ের অভিজ্ঞতায় বললেন, ‘বুধবার রাতে শহরে কেউ যেন বুলডোজার নিয়ে ঘুরে বেড়াল, আর প্রবল শক্তিতে সবকিছু তছনছ করে দিল।’

কলকাতার বহুতলবাসী অনেকেরই আবার মনে হয়েছে, সাইক্লোনের ধাক্কায় গোটা বাড়িটাই দুলতে শুরু করেছিল। পূর্ব কলকাতারই এক আবাসনের ১০ তলার থাকেন এক মধ্যবয়স্কা মহিলা। তিনি জানালেন, ‘আমাদের মনে হল যেন গোটা বাড়িটাই দুলছে। প্রথমে ভেবেছিলাম ভূমিকম্পও হচ্ছে বুঝি, পরে বুঝলাম ঘূর্ণিঝড়ের দাপটেই পুরো বাড়ি কাঁপছে।’

এমনই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন টলিউড অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরাও। তিনি টুইট করে লেখেন, ‘ভূমিকম্প না সাইক্লোন?’

বুধবার কলকাতা শহরের এমন কোনও এলাকা বাকি ছিল না, যা আমফানের তান্ডব থেকে রেহাই পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল হতেই দেখা মিলেছে মাটিতে লুটিয়ে থাকা গাছের ডাল, আবার কোথাও বা শিকড় সমেত উপড়ে পড়া মহীরূহ। সাথে রাস্তাময় ছড়িয়ে কাটা তার, ল্যাম্পপোস্ট আর ট্র্যাফিক সিগনালের খুঁটি। দুমড়ে মুচড়ে পাশেই পড়েছে পুলিশের লোহার রেলগার্ড থেকে ব্যারিকেড। একই সঙ্গে টুকরো হয়েছে কত বাড়ির জানলার কাঁচ আর দোকানের গ্লো-সাইনবোর্ড, ব্যানার।

ঝড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে ভারী বর্ষণ। যার জেরে বহু এলাকাই জলমগ্ন হয়েছে, যা এ দিন বেলা পর্যন্ত সরেনি। প্রতি মিনিটে একাধিক ফোন এসেছে কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোল রুমে। গাছ ও ল্যাম্পপোস্টের জন্য বহু রাস্তা বন্ধ হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বহু এলাকায়। কিছু এলাকায় ফোন পরিষেবাও ব্যাহত। কলকাতা সহ গোটা রাজ্য যেন এক দানবের প্রলয় নৃত্যের শিকার হয়েছে এক দিনে।

আরও অন্যান্য খবর