সর্বনাশ হয়ে গেছে! মুখ্যমন্ত্রীর এক কথাতেই স্পষ্ট ঘূর্ণিঝড় আমফান বিপর্যয়ে বাংলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ!

অকল্পনীয়, অপূরণীয় ক্ষতি। টাকার অঙ্কে কালকে হ‌ওয়া ক্ষতির পরিমাণ ছুঁতে পারে হাজার কোটি টাকা। লক্ষ কোটিও ছাড়িয়ে যেতে পারে। বুধবার বিকেল থেকে রাতভর দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় যে নজিরবিহীন ধ্বংসলীলা চালিয়েছে আমফান, তার শেষ কোথায়, সেটা বুঝতেই আরও কয়েক দিন সময় লেগে যাবে বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বৃহস্পতিবার তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে রাজ্যে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতায় মৃতের সংখ্যা ১৫ জন।

চারিদিকে শুধুই ধ্বংসের ছবি! মুখ্যমন্ত্রীর
কথায়, ‘উত্তর-দক্ষিণ পরগনায় খাওয়ার জল নেই। সারানো রাস্তা যেন ৩ বছর স্থায়ী হয়, এটা দেখতে হবে। অতি দ্রুত বাঁধগুলো মেরামত করতে হবে।’ গতকাল নবান্নে বসে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।’

বাস্তবেই উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা-হুগলির বেশ কিছু জায়গাজুড়েই এখন শুধু ধ্বংসের ছবি। যে সুন্দরবনকে প্রবেশপথ করে রাজ্যে ঢোকে আমফান, সেই সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির ছবি ভয়ানক। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ম্যানগ্রোভ জঙ্গলও। ক্যানিং মহাকুমার গোসোবা, বাসন্তী, কুলতলী, জয়নগরের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, নেই বিদ্যুৎ পরিষেবা। গুরুত্বপূর্ণ বহু রাস্তা গাছ পড়ে পুরোপুরি অবরুদ্ধ। পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়রাও হাত লাগিয়েছেন গাছ পরিষ্কার করার কাজে। কিন্তু পরিস্থিতি আবার কবে স্বাভাবিক হবে, বলা যাচ্ছে না এখনই।

এই দিন বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাঁরা মারা গেছেন তাঁদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য। সেইসঙ্গেই তাঁর সংযোজন, ‘উদ‍্যানপালন ও কৃষি দফতরের মোট ক্ষয়ক্ষতি কত হয়েছে সেটা একযোগে দেখতে হবে। কৃষি দফতরের সাথে পঞ্চায়েত, খাদ‍্য, উদ‍্যানপালন, সেচ, মৎস্যচাষ, স্বাস্থ্য সব দফতর একসাথে কাজ করে সাতদিনের মধ‍্যে সার্ভে রিপোর্ট জমা দেবে।’

ধ্বংসের যে প্রাথমিক তথ্য এসেছে রাজ্য প্রশাসনের কাছে, তার বেশিরভাগই দুই ২৪ পরগনা জেলা থেকে। সর্বোচ্চ ১৮৫ কিলোমিটার গতিতে তাণ্ডবে বাঁধভাঙা জলে ভেসে গিয়েছে গোসাবা, কুলতলি। পাথরপ্রতিমা, বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ কার্যত ধুয়ে-মুছে গিয়েছে। ঝড়ের দাপটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ লাগোয়া সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অংশেও। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গোসাবায় ভাটার সময়ও জলস্তর দেড়তলা সমান উঁচু ছিল। সকালেও গোসাবা, কুলতলি, পাথরপ্রতিমায় গ্রামবাসীরা বালির বস্তা, ইট ফেলে বাঁধ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সে সব গিলে খেয়েছে আমফানের তাণ্ডবে ফুঁসে ওঠা নদী। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বলেন, ‘গঙ্গাসাগর, নামখানা, কাকদ্বীপ, ফ্রেজারগঞ্জ, কুলতলি, ভাঙড়, জয়নগর, হাসনাবাদ, সন্দেশখালি, গোসাবা, হাবরা সব জায়গা সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে।’

এদিকে, সুপার সাইক্লোনের দাপটে তাজপুর, শঙ্করপুর মন্দারমণির মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলি ছাড়াও রামনগরের দু’টি ব্লক, কাঁথির ১ এবং ২ এবং খেজুরিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে জেলা প্রশাসন। উপকূল এলাকা-সহ জেলা জুড়ে ঝড়ের কারণে গাছের ডালপালা ভাঙার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর গাছ ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রচুর মাটির বাড়ি। বৈদ্যুতিক পোস্ট এবং তার ছিঁড়ে পড়েছে। যে কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবাও বেহাল। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সময় মতো উপকূল এলাকার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৭৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

একই ভাবে শঙ্করপুরের কাছে চাঁদপুর, জামড়া শ্যামপুরে সমুদ্রবাঁধ ঢেউয়ের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাঁধ টপকে আসা সমুদ্রের জল আটকানোর জন্য সেচ দপ্তরের রাখা বালির বস্তা রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে। মেরিন ড্রাইভের বিটুমিনের রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় কাদা মাটি বেরিয়ে পড়ে।

RELATED Articles

Leave a Comment