“রাতভর ঘুম হয়নি” সকালেই ‘প্রথা’ ভেঙে রাস্তায় মমতা ব্যানার্জি! ভোটের দিন গুরুতর অভিযোগে সরব তৃণমূল নেত্রী! ভোটের রাজনীতিতে তপ্ত ভবানীপুর!

ভোটের দিন সাধারণত সকালবেলায় জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায় না মমতা ব্যানার্জিকে (Mamata Banerjee)। কিন্তু এবার সেই দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে সকাল সকাল রাস্তায় নামলেন তিনি। ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং “প্রার্থী” পরিচয়ে এলাকায় ঘুরে ভোট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন তিনি। সকালেই চেতলায় পৌঁছে স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং সেখান থেকেই সংবাদমাধ্যমের সামনে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেন। ভোটের দিন তাঁর এই অস্বাভাবিক সক্রিয়তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগের রাতটা তাঁর একেবারেই ঘুম হয়নি। কারণ, রাতভর বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ আসছিল তৃণমূল কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে। তাঁর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং অবজার্ভাররা সেই নির্দেশ মানছেন না। মমতার দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং বিরোধী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ভোটের পরিবেশ প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের পোস্টার খুলে ফেলা হয়েছে এবং কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে যাতে তারা বুথের কাজে সক্রিয় থাকতে না পারেন।

চেতলায় দাঁড়িয়ে মমতা আরও বলেন, “আজ আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, প্রার্থী হিসেবে ঘুরছি।” তাঁর কথায় স্পষ্ট ছিল ক্ষোভ এবং উদ্বেগ। তিনি দাবি করেন, গতরাতে ব্যাপক অশান্তি হয়েছে, যার খবর সাধারণ মানুষ পুরোটা জানেন না। তৃণমূল নেতা অভিষেক ব্যানার্জীর সঙ্গে তিনিও নাকি রাতভর পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসু এবং তাঁর স্ত্রীকে গভীর রাতে হেনস্থা করা হয়েছে। মমতার দাবি, রাত দেড়টার সময় তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং বেরোতে বাধা দেওয়া হয়। এই ঘটনাগুলিকে তিনি ভোটের আগে বিরোধীদের “চাপ সৃষ্টির কৌশল” বলেই ব্যাখ্যা করেছেন।

এদিকে ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর যাওয়ার ঘটনাকেও কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মমতার অভিযোগ, মাঝরাতে ফিরহাদের বাড়ির দরজায় গিয়ে ধাক্কা দেওয়া হয়, যা তাঁর পরিবারের সদস্যদের আতঙ্কিত করে তোলে। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভোটের পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। অন্যদিকে, তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী দিন শুরু করেছেন খিদিরপুরের হনুমান মন্দিরে পুজো দিয়ে। ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বনাম শুভেন্দুর এই লড়াই এখন রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে, যার দিকে নজর রয়েছে গোটা বাংলার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিরও।

আরও পড়ুন: পুঁথি উদ্ধারের আনন্দ ম্লান করে দিল পুলস্ত্যর চক্রান্ত! গোরার প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গু’লিবিদ্ধ দিতি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

এই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই আরেকটি ঘটনা সামনে আসে, যেখানে মমতার ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি কয়েকজনকে নিয়ে বসে থাকতে দেখে পুলিশ সতর্ক করে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে চারজনের বেশি একসঙ্গে জমায়েত না হওয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। যদিও ঘটনাটি নিয়ে বড় কোনও উত্তেজনা তৈরি হয়নি, তবে তা ভোটের সংবেদনশীল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভবানীপুরের এই ভোট শুধু একটি আসনের নির্বাচন নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। একদিকে মমতার অভিযোগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে সক্রিয়। সব মিলিয়ে ভবানীপুরে ভোটের দিন সকাল থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর