ফলতা কাণ্ডে নতুন মোড়! জাহাঙ্গির খানের ‘গ্রেফতার’ ঘিরে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া, ভোট বাতিলের আবহে বাড়ছে রহস্য!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উত্তপ্ত। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে, আর সেই আবহেই বিভিন্ন খবর ও গুজব ছড়িয়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। ভোট বাতিল থেকে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত, সব মিলিয়ে এই কেন্দ্র এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। এর মধ্যেই তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে একটি গ্রেফতারের দাবি ভাইরাল হয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

এবারের নির্বাচনে বড় ফলাফল এসেছে বিজেপির পক্ষে। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে ভোটগণনা সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে বিজেপি রেকর্ড ২০৬টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর ফলে প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে সরিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। এই ফলাফল রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে এই গণনার প্রক্রিয়ার মধ্যেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন ওই কেন্দ্রে ভোট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণের ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫টি ভোটকেন্দ্রে আবার ভোট হবে এবং তার গণনা হবে ২৪ মে। এই ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন: অরূপ হারতেই বি’স্ফোরক কলকাতায় মেসি আয়োজনের মাথা শতদ্রু দত্ত! তোর খেলা শেষ আমার খেলা শুরু হু’ঙ্কার দিলেন তিনি

এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে ক্যানিং এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পোস্টে আরও বলা হয়, তিনি নাকি বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এমনকি তার সঙ্গে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিকের ছবিও শেয়ার করা হয়, যা দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।

তবে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, এই ধরনের কোনো গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেনি। ক্যানিং থানার পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, জাহাঙ্গির খানকে গ্রেফতার করার খবরটি সঠিক নয়। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই দাবিকে কেন্দ্র করে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করছেন অনেকে।

আরও অন্যান্য খবর