ভোট মিটতেই ভারতীয় রেলের কড়া উচ্ছেদ অভিযান! বালি স্টেশন থেকে হল্ট পর্যন্ত, বুলডোজারে দাপটে গুঁড়িয়ে গেল ১৪৯ অস্থায়ী দোকান ও বস্তি! ফেরত মিলল দীর্ঘদিনের জবরদখলের সরকারি জমি!

ভোটের আবহ কাটতে না কাটতেই হাওড়া ও হুগলির দুই রেলস্টেশন চত্বর যেন রাতারাতি বদলে গেল। একদিকে বালি স্টেশন সংলগ্ন সারি সারি দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল বুলডোজার, অন্যদিকে পাণ্ডুয়া স্টেশন এলাকার বহু বছরের বস্তিও রাতের অন্ধকারে উচ্ছেদ করল রেল কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ এই অভিযানে বহু পরিবার কার্যত মাথার উপর ছাদ হারিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। কোথাও দোকানের টিন উড়ছে, কোথাও আবার ভাঙা ইট-পাথরের পাশে বসে কাঁদছেন অসহায় মানুষ। আর সেই ছবিকেই ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

বালি স্টেশন এলাকায় শনিবার রাত থেকেই শুরু হয় রেলের উচ্ছেদ অভিযান। বালি স্টেশন থেকে বালি হল্ট পর্যন্ত মোট ১৪৯টি অস্থায়ী দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। খাবারের দোকান, ফলের স্টল, মোবাইল সারাই, ব্যাগের দোকান একের পর এক ছোট ব্যবসা মুহূর্তে ধূলিসাৎ হয়ে যায় বুলডোজারের সামনে। স্থানীয়দের দাবি, ভোটের ফল ঘোষণার আগেই পরিকল্পনা করে এই সময়টাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। কারণ নির্বাচন চলাকালীন প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকায় সাধারণ মানুষ দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। শুধু দোকান নয়, উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙে ফেলা হয়েছে তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয়ও। ফলে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।

তবে রেল সূত্রের দাবি, এই অভিযান আচমকা নয়। ২০২৫ সাল থেকেই ওই এলাকায় বেআইনি দখল সরানোর জন্য নোটিস দেওয়া হচ্ছিল। পরে ব্যবসায়ীদের আবেদনের ভিত্তিতে কিছু সময়ের জন্য উচ্ছেদ স্থগিত রাখা হয়। গত ৩০ এপ্রিল ফের নতুন করে মাইকিং ও নোটিস দিয়ে দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের কাজের জন্য ওই জায়গা প্রয়োজন বলেই জানানো হয়। কিন্তু বহু ব্যবসায়ীর বক্তব্য, মাত্র দু’দিন সময় দিয়ে এত বছরের ব্যবসা সরানো সম্ভব নয়। ব্যবসায়ী সঞ্জয় বিশ্বাস ও রথীন সরকারের কথায়, “আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। পুনর্বাসনের কোনও নিশ্চয়তাও নেই। সংসার কীভাবে চলবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।”

একই রাতে হুগলির পাণ্ডুয়া স্টেশন এলাকাতেও চলে আরও বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন তাঁরা। রেলের জমি ছাড়তে আপত্তি না থাকলেও বিকল্প বাসস্থানের দাবি জানিয়েছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু সেই দাবি না মেনেই রাতের অন্ধকারে একের পর এক ঘরবাড়ি ও দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদের পর বহু মানুষ রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরে রেল পুলিশ এসে সেই বিক্ষোভ সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। ভাঙা ঘরের সামনে বসে অনেককেই বলতে শোনা যায়, “এখন কোথায় যাব, কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।”

আরও পড়ুনঃ ‘অভিষেকের ভালো অফিসারই কি খু*নের মাস্টারমাইন্ড?’ চন্দ্রনাথ রথ খুনে বিস্ফো*রক অর্জুন সিং! বাংলাদেশ থেকে ভাড়া করা হয়েছিল পেশাদার খু*নি?

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলও সরব হয়েছে। হাওড়া জেলা আইএনটিটিইউসির সেক্রেটারি মলয় সরকারের দাবি, জুন মাস পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা মানা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, “ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটের সময়কে বেছে নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মারা হয়েছে।” যদিও পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝির বক্তব্য, রেলের জমি দখলমুক্ত করার কাজ নিয়ম মেনেই চলছে এবং আগেই একাধিকবার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, রেল পরিষেবার উন্নয়ন ও প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর