“সেলিব্রিটি বলেই ক্ষমতার দাপট নয়, এবার থেকে সবার জন্য সমান অধিকার” নৈহাটির বড় মায়ের মন্দিরে ভিআইপি সংস্কৃতি বন্ধের ঘোষণা, বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারকে ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ১০ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান থেকেই উঠে এসেছে এক নতুন বার্তা বাংলার সংস্কৃতি, আভিজাত্য এবং ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই এগোতে চাইছে নতুন সরকার। পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে খাবার, অতিথি আপ্যায়ন সবকিছুতেই ছিল স্পষ্ট বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে যাবে। তবে নতুন সরকারের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানেই সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এই আবহের মধ্যেই নৈহাটির বিখ্যাত বড় মায়ের মন্দির নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ও প্রার্থী সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, মন্দিরের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হবে এবং সেখানে সাধারণ ভক্তদের সুবিধার বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে আলাদা লাইন এবং যারা পুজো দেবেন তাদের জন্য থাকবে পৃথক ব্যবস্থা। তবে সবচেয়ে বেশি চর্চায় এসেছে তার আরেকটি মন্তব্য—কোনও সেলিব্রিটি বা প্রভাবশালী ব্যক্তির জন্য আলাদা বিশেষ সুবিধা রাখা হবে না। অর্থাৎ সবাইকে সাধারণ মানুষের সঙ্গেই লাইনে দাঁড়িয়ে পুজো দিতে হবে, এমনটাই আপাতত ভাবা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মিছিলে না হেঁটেও গেরুয়া শিবিরের বিশেষ আমন্ত্রণ! মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণে ‘ভিআইপি ডাক’ ঘিরে ফের বিতর্কে টলিউড ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী!

গত কয়েক বছরে বড় মায়ের মন্দিরকে কেন্দ্র করে বহুবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছিল, বহু সাধারণ ভক্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও, কোনও সেলিব্রিটি বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি এলেই সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দিয়ে তাদের আগে পুজো দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হতো। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নেট প্রভাবশালী মলি চক্রবর্তী মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ভিডিওর মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছিলেন কীভাবে সাধারণ মানুষের জন্য এক নিয়ম এবং কিছু বিশেষ ব্যক্তির জন্য অন্য নিয়ম প্রযোজ্য হচ্ছে। সেই সময় অভিনেতা দেব এবং অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়-এর মতো পরিচিত মুখদের ঘিরে আলাদা সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছিল।

শুধু ভিড় নিয়ন্ত্রণ নয়, মন্দিরকে ঘিরে আরও বড় প্রশ্ন উঠেছিল ভক্তির জায়গা কি ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হয়ে উঠছে? অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির চেয়ে প্রচার, ছবি তোলা এবং রাজনৈতিক উপস্থিতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে মন্দিরের পবিত্র পরিবেশ অনেকটাই নষ্ট হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেন বহু ভক্ত। সেই কারণেই নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, যদি সত্যিই কোনও ভিআইপি সংস্কৃতি না রেখে সকলের জন্য সমান নিয়ম কার্যকর করা যায়, তাহলে মন্দিরের পরিবেশ অনেকটাই স্বাভাবিক ও ভক্তিমূলক হয়ে উঠবে।

তবে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে? কারণ অতীতেও বহু প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও বাস্তবে তার সম্পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায়নি। তাই সাধারণ মানুষ এখন নজর রাখছেন নতুন কমিটির কাজের উপর। যদি সত্যিই সাধারণ ভক্তরা সম্মান ও সমান সুযোগ পান, তাহলে নৈহাটির বড় মায়ের মন্দির আবারও শুধুমাত্র ভক্তি ও আস্থার জায়গা হিসেবেই পরিচিত হবে বলেই আশা করছেন বহু মানুষ।

আরও অন্যান্য খবর