“ভুঁইফোড় সংস্থা দিয়ে কঠিন রাজনৈতিক লড়াই হয় না” তৃণমূলে বাড়ছে অস্বস্তি….জেলা সভাপতি পদ ছেড়ে বিস্ফো’রক বার্তা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের!

বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষের সুর ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। দলের বিভিন্ন স্তরে ক্ষোভ, দোষারোপ এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছিলই। সেই আবহের মধ্যেই রবিবার বড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করে তিনি কার্যত দলের অন্দরের অসন্তোষকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এলেন। মধ্যমগ্রামে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান কাকলি।

প্রথমে তিনি সরাসরি খুব বেশি কিছু না বললেও, ধীরে ধীরে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর ক্ষোভ। কাকলির দাবি, দলের “বৈভব”, “প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি” এবং ভোট কুশলী সংস্থার অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েই তিনি এই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে লেখা নিজের চিঠিতেও তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে ঘটে চলা অপরাধ ও দুর্নীতির ঘটনাগুলি সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চিঠিতে কাকলি আরও লেখেন, নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় যদি আগের মতো সৎ, নিষ্ঠাবান এবং দীর্ঘদিনের পুরনো কর্মীদের নিয়ে দল পরিচালনা করেন, তাহলে দলের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। একই সঙ্গে “ভুঁইফোড় সংস্থা” দিয়ে কঠিন রাজনৈতিক লড়াই সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও কোনও নির্দিষ্ট সংস্থার নাম তিনি প্রকাশ্যে বলেননি, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে তাঁর ইঙ্গিত ছিল ভোট কুশলী সংস্থাগুলির দিকেই। আর সেই মন্তব্য সামনে আসতেই তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই দলের প্রথম সারির একাধিক নেতা শীর্ষ নেতৃত্ব এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই কিছুদিন আগে লোকসভায় তৃণমূলের সচেতক পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় কাকলিকে। পরে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণ ব্যানার্জিকে। ওই সিদ্ধান্তের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বারাসতের সাংসদ। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক লড়াই এবং দলের প্রতি আনুগত্যের “পুরস্কার” এভাবেই পেলেন বলে তখন আক্ষেপ করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ৪৬-এও সিঙ্গেল রাইমা সেন! ‘মনের মতো মানুষ পাইনি’, বিয়ে নিয়ে খোলামেলা অভিনেত্রী! অতীতের কোন অভিজ্ঞতা ফাঁস করলেন তিনি? অভিনেত্রীর মনে মানুষ কেমন?

এবার জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তে সেই ক্ষোভ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও তিনি এখনও দল ছাড়ার কোনও ইঙ্গিত দেননি, তবুও তাঁর বক্তব্যে তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তি স্পষ্ট হয়েছে বলে মত অনেকের। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ভোটের ফলের পর দলের ভিতরে যে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, কাকলির এই পদত্যাগ তারই বড় উদাহরণ। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর