অপারেশনের পর অ্যাম্বুলেন্সে বাড়ি ফিরলেন জোজো! পথে কোন অদ্ভুত অনুভূতির কথা জানালেন গায়িকা?

গত ২০ মে হঠাৎই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় সংগীতশিল্পী জোজো মুখোপাধ্যায়-কে। জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে একটি শুটিংয়ের সময় পড়ে গিয়ে পায়ে চোট পান তিনি। প্রথমদিকে ওষুধ এবং ইনজেকশনের সাহায্যে ব্যথা কমানোর চেষ্টা চললেও তাতে বিশেষ ফল মেলেনি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচার করাতে হয় শিল্পীকে। কয়েকদিন হাসপাতালের পর্যবেক্ষণে থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। অপারেশনের চার দিনের মাথায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ায় স্বস্তিতে পরিবারও। তবে আপাতত সম্পূর্ণ বিশ্রামেই থাকতে হবে তাঁকে। চিকিৎসকদের নির্দেশ অনুযায়ী এখনই হাঁটাচলা করার অনুমতি নেই বলেও জানা গিয়েছে। তবুও বাড়ি ফিরে মানসিকভাবে অনেকটাই ভালো আছেন জোজো।

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার সময় একটি অন্যরকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন গায়িকা। সেই অনুভূতির কথাই তিনি ভাগ করে নিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। জোজো লেখেন, “আজকে একটা অন্য অভিজ্ঞতা হল। তাই ভাবলাম একটু লিখি। এতদিন অনেক অনুষ্ঠানে পাইলট পুলিশ কার হুটার লাগানো গাড়িতে সাইরেন বাজিয়ে শো করতে নিয়ে গিয়েছে। তবে আজ সাইরেন বাজানো অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি ফিরতে অদ্ভুত এক অনুভূতি হচ্ছিল।” তাঁর এই কথায় স্পষ্ট, পরিস্থিতির এই পরিবর্তন তাঁকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল। তবে বাড়ি ফিরে তিনি অনেকটাই স্বস্তি অনুভব করছেন বলেও জানান। দীর্ঘ হাসপাতাল জীবনের পর নিজের বাড়িতে ফিরতে পেরে খুশি শিল্পী।

সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে পরিবারের কথাও উল্লেখ করেছেন জোজো। তিনি জানান, বাড়ি ফেরায় ছেলে আদি খুব খুশি হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর প্রিয় পোষ্য বাজোও সবসময় তাঁর কাছেই ছিল। পোস্টের শেষে অনুরাগীদের উদ্দেশে জোজো লেখেন, “আপনারা সবাই ভাল থাকবেন। খুব তাড়াতাড়ি আবার আড্ডা দেবো আপনাদের সঙ্গে।” এই বার্তার পর থেকেই শুভেচ্ছায় ভরে যায় তাঁর পোস্টের কমেন্ট বক্স। অনেকেই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার কামনা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় অনুরাগীরাও তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ রাখছিলেন। বাড়ি ফেরার খবর প্রকাশ্যে আসতেই স্বস্তি প্রকাশ করেন অনেকেই।

আরও পড়ুন: ৪৬-এও সিঙ্গেল রাইমা সেন! ‘মনের মতো মানুষ পাইনি’, বিয়ে নিয়ে খোলামেলা অভিনেত্রী! অতীতের কোন অভিজ্ঞতা ফাঁস করলেন তিনি? অভিনেত্রীর মনে মানুষ কেমন?

জোজোর পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন টলিপাড়ার একাধিক পরিচিত মুখও। সংগীতশিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র লিখেছেন, “তুই লড়াকু মেয়ে। তাড়াতাড়ি সেরে ওঠ।” অভিনেতা দেবব্রতীম দাশগুপ্ত-ও শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, “তুই বাড়ি এসেছিস, এটাই আনন্দের, অনেক ভালোবাসা বন্ধু।” এছাড়াও অসংখ্য সাধারণ মানুষ তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। অনেকেই মন্তব্যে লিখেছেন, খুব তাড়াতাড়ি যেন আবার মঞ্চে দেখা যায় তাঁকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভালোবাসা এবং সমর্থন জোজো ও তাঁর পরিবারের মনোবল আরও বাড়িয়েছে বলেই মনে করছেন অনুরাগীরা। শিল্পীর সুস্থতার অপেক্ষায় এখন সকলেই।

যদিও হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন, তবুও এখনই কাজে ফেরার সুযোগ নেই জোজোর। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে বাড়িতেই বিশ্রাম নিতে হবে তাঁকে। বর্তমানে হাঁটাচলা বন্ধ রাখতেই বলা হয়েছে। তবে এই সময়ে বাইরে অনুষ্ঠানের চাপ কম থাকায় বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন শিল্পী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত ১৩ মে ছেলের অসুস্থতার খবরও নিজেই জানিয়েছিলেন জোজো। সেই সময় ছেলেকে নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগে ছিলেন তিনি। পরে অবশ্য আদি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে। এর মধ্যেই আবার জোজোর অসুস্থতার খবর সামনে আসায় চিন্তায় পড়েছিলেন অনুরাগীরা। এখন মা ও ছেলে দু’জনেই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।

আরও অন্যান্য খবর