বর্তমানে বাংলা তথা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)-এর একটি ভিডিও ঘিরে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সম্প্রতি একটি লাইভ কনসার্টে গান গাওয়ার মাঝেই পাকিস্তানি শিল্পীদের গান ভারতে এখনও বন্ধ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শোনা যায় তাঁকে। দর্শকদের সামনে সরাসরি এই প্রসঙ্গ তোলায় মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ সমালোচনাও করেছেন। কনসার্টে দাঁড়িয়ে অরিজিৎ বলেন, তাঁর মনে একটি বিতর্কিত প্রশ্ন এসেছে এবং সেটা তিনি জানতে চান। তিনি আরও বলেন, খবর খুব একটা অনুসরণ করেন না বলে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত নন। তবে পাকিস্তানের শিল্পীদের গান ভারতে এখন চলছে কি না, সেই কৌতূহল থেকেই তিনি প্রশ্নটি করেন।
ভিডিয়োতে অরিজিৎকে বলতে শোনা যায়, “পাকিস্তানের গান কি এখনও ভারতে বন্ধ? নাকি আবার শুরু হয়েছে? মাঝে তো মনে হয়েছিল বন্ধ হয়েছিল!” এরপরই তিনি জানান, পাকিস্তানের গায়ক আতিফ আসলাম তাঁর অন্যতম প্রিয় শিল্পী। পাশাপাশি রাহাত ফতেহ আলি খান এবং শাফকাত আমানত আলি-র নামও উল্লেখ করেন তিনি। গায়কের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ লেখেন, “জিও অরিজিৎদা, সত্যি সাহস আছে আপনার।” আবার কেউ মন্তব্য করেন, “এবার হয়তো ওঁকেও পাকিস্তানে যেতে বলবে অনেকে।” অন্য এক নেটিজেন লেখেন, “এবার অন্ধভক্তরা নিশ্চয়ই অরিজিতের গান বয়কটের ডাক দেবে।” এই মন্তব্যগুলিই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও একাধিক ব্যবহারকারী এই বিতর্কে নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন। একজন লিখেছেন, “শিল্পীর কোনও ধর্ম বা দেশ হয় না, শিল্প সবার জন্য।” আবার কেউ মনে করেছেন, সংগীত এবং শিল্পকে রাজনৈতিক সীমারেখার বাইরে রাখা উচিত। অরিজিতের মন্তব্য ঘিরে এই আলোচনা নতুন করে পাকিস্তানি শিল্পীদের ভারতে কাজ করা নিয়ে পুরনো বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব পড়েছে বিনোদন জগতেও। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্ত উত্তেজনার ঘটনাগুলির পরে পাকিস্তানি শিল্পীদের নিয়ে আপত্তি আরও জোরালো হয়েছে। ফলে ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতে তাঁদের কাজের সুযোগ অনেকটাই কমে যায়। যদিও সাধারণ দর্শকদের একাংশ এখনও পাকিস্তানি শিল্পীদের গান ও অভিনয় পছন্দ করেন।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পর ভারতের বিভিন্ন চলচ্চিত্র সংগঠন পাকিস্তানি শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে কাজ না করার আহ্বান জানায়। বিশেষ করে ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ান সিনে এমপ্লয়িস বা FWICE এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নেয়। শুধু সিনেমা নয়, পাকিস্তানি গান, নাটক, পডকাস্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়েও নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করা হয়। একাধিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকেও পাকিস্তানি কনটেন্ট সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি জনপ্রিয় মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম থেকেও পাকিস্তানি শিল্পীদের গান সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে খবর সামনে আসে। এই সিদ্ধান্তের জেরে দুই দেশের সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান কার্যত থমকে যায়।
আরও পড়ুন: “আমাদের মাঝে আর কেউ ঢুকতে পারবে না…” নবনীতার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর, এবার কার প্রেমে ডুবে জিতু কমল? নিজেই সবটা জানালেন অভিনেতা!
এর পাশাপাশি পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খান, অভিনেতা ফাওয়াদ খান এবং অভিনেত্রী হানিয়া আমির-এর কাজও ভারতে নিষিদ্ধ করা হয় বলে আলোচনা শুরু হয়। তবে অতীতে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন অভিনেত্রী মুমতাজ এবং পরিচালক করণ জোহরের মতো কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তাঁদের বক্তব্য ছিল, শিল্প ও প্রতিভাকে রাজনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত নয়। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের অধিকাংশ প্রযোজক ও নির্মাতা নতুন করে কোনও বিতর্কে জড়াতে চাইছেন না। তাই পাকিস্তানি শিল্পীদের নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে এখনও অনীহা স্পষ্ট। এর মধ্যেই অরিজিৎ সিংয়ের মন্তব্য নতুন করে সেই বিতর্ককে আবার সামনে এনে দিয়েছে।
View this post on Instagram






