আকস্মাৎ মৃ’ত্যুতে চিরনিদ্রায় জনপ্রিয় পরিচালক অনীক দত্ত! পরিচালকের অকাল মৃ’ত্যুতে শোকে মূহ্যমান টলিউড

বুধবারের সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হলেও দুপুর গড়াতেই টলিপাড়ায় নেমে আসে শোকের ভারী ছায়া। জনপ্রিয় পরিচালক অনীক দত্তর আকস্মিক প্রয়াণ যেন সকলকে স্তব্ধ করে দেয়। জানা যায়, হঠাৎই ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি এবং দ্রুত তাঁকে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রতিভাবান চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাঁর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্যের আবহ, যা আরও গভীর করেছে এই শোকের ভার।

সমকালীন বাংলা সিনেমায় একঘেয়েমির ভিড়ে অনীক দত্তর আগমন ছিল একদম নতুন হাওয়ার মতো। ২০১২ সালে তাঁর প্রথম ছবি ভূতের ভবিষ্যৎ মুক্তির পরই তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন। এই ছবিতে সমাজ এবং রাজনীতির উপর তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ, সঙ্গে বাঙালির নস্টালজিয়া মিলিয়ে তিনি এমন এক ভাষা তৈরি করেন যা আগে খুব কমই দেখা গেছে। তাঁর গল্প বলার ভঙ্গি ছিল বুদ্ধিদীপ্ত, রসিক এবং গভীর চিন্তাশীল যা বাংলা সিনেমাকে নতুন দিশা দেখায়।

এরপর একের পর এক ভিন্ন স্বাদের ছবি উপহার দেন তিনি। আশ্চর্য প্রদীপ ছবিতে মধ্যবিত্ত জীবনের লোভ আর কর্পোরেট দুনিয়ার প্রভাবকে ফ্যান্টাসির মোড়কে তুলে ধরেন। মেঘনাদবধ রহস্য ছবিতে রহস্য আর সাহিত্যকে মিলিয়ে তৈরি করেন এক অভিনব অভিজ্ঞতা। ভবিষ্যতের ভূত ছবিটি রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ালেও তাঁর সাহসী মানসিকতার পরিচয় দেয়। বরুণবাবুর বন্ধু ছবিতে মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম দিকগুলোকে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেন তিনি।

তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সৃষ্টি হিসেবে ধরা হয় অপরাজিত ছবিকে। সত্যজিৎ রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি এই চলচ্চিত্রে পথের পাঁচালী নির্মাণের পেছনের সংগ্রামকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তোলেন তিনি। এই ছবির মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে ইতিহাস আর আবেগকে একসঙ্গে বুনে কীভাবে বিশ্বমানের সিনেমা তৈরি করা যায়। তাঁর সিনেমায় সবসময়ই ছিল সমাজের প্রতিচ্ছবি, তবে তা কখনও সরাসরি উপদেশ নয় বরং সূক্ষ্ম শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশ পেত।

আরও পড়ুনঃ মহম্মদ রফির কন্ঠে সেই গান শুনে, নিজের চোখের জল সামলাতে পারেননি ইন্দিরা গান্ধী! অতঃপর সারা দেশে করমুক্ত করা হয়েছিল, কোন সেই ছবি?

অনীক দত্তর কাজের মূল শক্তি ছিল তাঁর মাটির কাছাকাছি থাকা ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক মানের উপস্থাপনা। তিনি ছিলেন এমন একজন নির্মাতা যিনি বিনোদনের পাশাপাশি ভাবতে শিখিয়েছেন দর্শকদের। তাঁর হঠাৎ প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্র এক বড় শূন্যতার মুখে দাঁড়াল। যে আলোর প্রদীপ তিনি জ্বালিয়ে গিয়েছিলেন, তা নিভে গেলেও তাঁর কাজ চিরকাল বেঁচে থাকবে দর্শকের মনে এবং চলচ্চিত্রের ইতিহাসে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর