সামাজিক মাধ্যমে প্রাণীদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং সবসময় হাসিখুশি উপস্থিতির জন্য পরিচিত ছিলেন মগরার তরুণী ভ্লগার সায়নী চক্রবর্তী। মাত্র ২৩ বছর বয়সে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, বন্ধু এবং অনুরাগীদের মধ্যে। গত বৃহস্পতিবার আত্মঘাতী হন তিনি বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে আসছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগের তির ঘুরেছে তাঁর প্রেমিক সায়ন কুণ্ডুর দিকে। ইতিমধ্যেই মগরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
ভ্লগিংয়ের পাশাপাশি অবলা প্রাণীদের নিয়ে কাটত সায়নীর দিনের বড় অংশ। নিজের ভিডিওতে তিনি নিয়মিত তুলে ধরতেন এলাকার কুকুর, বিড়াল, গরু এবং অন্যান্য প্রাণীদের। পরিবারের দাবি, সায়নীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরদিন সকালেই সেই প্রাণীগুলির অনেকেই বাড়ির উঠোনে এসে জড়ো হয়। সেই দৃশ্য দেখে ভেঙে পড়েন তাঁর মা মলি চক্রবর্তী। কয়েক মাস আগে কেনা তাঁর প্রিয় বুলেট মোটরসাইকেলটিও এখন বাড়ির উঠোনে নিঃসঙ্গভাবে দাঁড়িয়ে। সম্প্রতি সেই বাইকেই কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তাই হঠাৎ এই মর্মান্তিক ঘটনার ধাক্কা সামলাতে পারছে না পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত চার বছর ধরে ত্রিবেণীর এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন সায়নী। দুই পরিবারই সেই সম্পর্ক মেনে নিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। মায়ের সঙ্গে বন্ধুর মতো সম্পর্ক থাকলেও নিজের ব্যক্তিগত কষ্টের কথা তিনি খুব একটা প্রকাশ করতেন না। বন্ধুদের কাছ থেকে জানা যায়, মৃত্যুর আগের রাতে তিনি প্রেমিকের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার সময় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ওই সময় তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তিনি চরম মানসিক আঘাতের সম্মুখীন হন।
মলি চক্রবর্তীর অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে সায়নীকে এড়িয়ে চলছিলেন ওই যুবক। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক অস্বীকার করারও চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে পরিবারের দাবি। মৃতার মায়ের বক্তব্য, অভিযুক্ত যুবক নিয়মিত মদ্যপান করতেন এবং একাধিকবার সায়নীর উপর শারীরিক নির্যাতনও চালিয়েছিলেন। যদিও এসব বিষয়ে বাড়িতে কখনও খোলাখুলি কিছু বলেননি সায়নী। তবে তাঁর মোবাইল ফোনের চ্যাট ও কথোপকথন ঘেঁটে মানসিক চাপের একাধিক ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বলে পরিবারের দাবি। তদন্তকারীরাও সেই তথ্য খতিয়ে দেখছেন।
আরও পড়ুনঃ ৬০ বিধায়কের অনুপস্থিতি, দুই বিধায়কের বহি’ষ্কার, অভিষেকের উপর জনরো’ষ, রাজ্য রাজনীতির অ’স্থির আবহে লাইভে এসে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! কারা তৃণমূলকে দু*র্বল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুললেন তিনি?
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মৃতার মা। তাঁর বক্তব্য, কেউ নির্দোষ হলে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। মেয়ের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিই জানিয়েছে পরিবার। পাশাপাশি, ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসার আগে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বা ভিত্তিহীন মন্তব্য না করার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে, তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।






