তৃণমূলের অন্দরের কো*ন্দল নিয়ে নতুন বিত*র্ক, নবান্নে মুকুল রায়কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মা*রধর করেছিলেন বলে দাবি অর্জুন সিংয়ের! অর্থ সংগ্রহের হিসাব নিয়েই কি শুরু হয়েছিল সেই সংঘা*ত?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর দলকে ঘিরে একের পর এক পুরনো বিতর্ক ও অন্তর্দ্বন্দ্ব আবারও সামনে আসতে শুরু করেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ, ক্ষমতার লড়াই এবং আর্থিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে নানা জল্পনা নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এমন আবহেই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং। এক সাক্ষাৎকারে তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় নেতা মুকুল রায়ের সম্পর্ক নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

অর্জুন সিংয়ের দাবি, তৃণমূলের ক্ষমতার শুরুর দিকেই মুকুল রায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ ও তার হিসাবকে কেন্দ্র করে গুরুতর মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় বিভিন্ন সূত্র থেকে তিনি জানতে পেরেছিলেন যে দলের ভিতরে অর্থ লেনদেন এবং সংগ্রহের বিষয় নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল। অর্জুন সিং দাবি করেন, তিনি নিজেই একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর কথায়, দলের ভিতরে কে কত টাকা সংগ্রহ করছে এবং সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই সময় তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলেন যে পরিস্থিতি নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নজর দেওয়া উচিত।

সাক্ষাৎকারে আরও এক ধাপ এগিয়ে অর্জুন সিং দাবি করেন, ওই আর্থিক বিষয়কে কেন্দ্র করেই একসময় নবান্নে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুকুল রায়ের মধ্যে তীব্র বচসা হয়। তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনায় মুকুল রায়কে ধাক্কা দেওয়া থেকে শুরু করে চড়-থাপ্পড় পর্যন্ত মারা হয়েছিল। যদিও এই ঘটনার কোনও সরকারি নথি বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ সামনে আসেনি, তবুও অর্জুন সিংয়ের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। কারণ অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুকুল রায়ের মধ্যে মতবিরোধের কথা রাজনৈতিক মহলে শোনা গেলেও, উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে সম্পর্কের অবনতি নিয়ে খুব বেশি মুখ খোলেননি।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথাও এই প্রসঙ্গে তুলে ধরেছেন অর্জুন সিং। তিনি জানান, একবার তাঁর গাড়ি আটকে দেওয়া নিয়ে তিনি প্রবল ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সেই ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। পরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দলের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে নিজের মতামত জানান। অর্জুন সিংয়ের বক্তব্য, দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে রাজ্যের বিভিন্ন স্তর থেকে তাঁর কাছে নানা ধরনের তথ্য পৌঁছত এবং সেই সূত্রেই তিনি দলের ভিতরে চলা অসন্তোষ সম্পর্কে অবগত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ চোখের সামনে বন্ধুর মৃ’ত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন দীপিকা! অকালে কোন কারণে সবচেয়ে প্রিয় মানুষটাকে হারিয়ে, সচেতনতা বৃদ্ধিতে পথে নেমেছিলেন বলি-ডিভা?

তবে অর্জুন সিংয়ের এই সমস্ত মন্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অতীতে মুকুল রায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব নিয়ে আলোচনা হলেও দুই পক্ষের তরফেই একাধিকবার জানানো হয়েছিল যে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে বাইরে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, বাস্তবে পরিস্থিতি ততটা খারাপ নয়। সেই কারণেই অর্জুন সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তৃণমূলের অতীতের নানা ঘটনা ও সম্পর্ক নিয়ে এখন যে ধরনের দাবি সামনে আসছে, তা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর