কিছুদিন আগেই এক প্রবীণ পরিচালকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল টলিউডে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও উদ্বেগের খবর এল বাংলা চলচ্চিত্র জগত থেকে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বর্ষীয়ান পরিচালক সুজিত গুহ। বর্তমানে তাঁর বয়স ৭৬ বছর। জানা গিয়েছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই খবর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন সঙ্গীত পরিচালক সূর্যজ্যোতি রাজা। তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন যে আগের তুলনায় এখন অনেকটাই স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন এই খ্যাতনামা পরিচালক। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেও তাঁর শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূর্যজ্যোতি রাজার বক্তব্য অনুযায়ী, সুজিত গুহ এসকেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। এই ধরনের স্ট্রোকে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে যায় এবং তার ফলে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। অসুস্থতার প্রভাবে পরিচালকের স্মৃতিশক্তিরও ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি নিজের বাড়িকেও তিনি অনেক সময় চিনতে পারছেন না। যদিও পরিস্থিতি প্রথম দিকের তুলনায় এখন অনেকটাই ভালো। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং সুস্থতার লক্ষণও ধীরে ধীরে দেখা যাচ্ছে। পরিবার ও ঘনিষ্ঠরাও তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।
বাংলা চলচ্চিত্র জগতে সুজিত গুহের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন একাধিক জনপ্রিয় ও সফল ছবি। তাঁর পরিচালিত ‘অমর সঙ্গী’, ‘অমর প্রেম’, ‘দাদামণি’ এবং ‘মন মানে না’ আজও দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা ধরে রেখেছে। বিশেষ করে ‘অমর সঙ্গী’ ছবির গান এখনও সমান জনপ্রিয়। দুর্গাপুজোর সময় ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ গানটি আজও বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে শোনা যায়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমায় তাঁর কাজ দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে। সেই কারণেই তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনুরাগীরা।
তবে সাফল্যে ভরা এই দীর্ঘ কর্মজীবনের পরেও গত কয়েক বছর ধরে কাজের সুযোগের অভাবে হতাশ ছিলেন পরিচালক। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তিনি আবারও নতুন করে কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন। পরিচালকের চেয়ারে ফিরে এসে নতুন ছবি নির্মাণের ইচ্ছাও ছিল তাঁর। কিন্তু কাজ না পাওয়ার কষ্ট তাঁকে মানসিকভাবে ভীষণভাবে প্রভাবিত করছিল। দীর্ঘদিনের এই মানসিক চাপ তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের ধারণা, অতিরিক্ত মানসিক উদ্বেগই সম্ভবত এই গুরুতর শারীরিক সমস্যার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ ৫ টাকায় মাছ-ভাত কি মানুষের খাওয়ার যোগ্য? ‘মা আহার’ কেন্দ্রে নিজেই এসে পাত পারে দুপুরের খাওয়া সারলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়! খাবার চেখে দেখে কী সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি?
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত কয়েক মাস ধরেই শোনা যাচ্ছিল যে সুজিত গুহ আবার নতুন ছবি পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চলচ্চিত্রপ্রেমীরাও তাঁর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই এই অসুস্থতার ঘটনা ঘটে যায়। তবুও চিকিৎসকরা আশাবাদী। তাঁদের মতে, যেভাবে চিকিৎসা চলছে এবং যেভাবে তিনি সাড়া দিচ্ছেন, তাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলা সিনেমার এই প্রবীণ নির্মাতা খুব শিগগিরই স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন, এমনটাই আশা করছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও চিকিৎসকরা।






