রাজ্যের স্বল্পমূল্যের খাদ্য প্রকল্প ‘মা আহার’-এর পরিদর্শনে গেলেন রাজ্যের সমাজিক বিষয়ক মন্ত্রী রূপা গাঙ্গুলী। তিনি শুধু প্রশাসনিক রিপোর্ট দেখেই সন্তুষ্ট থাকলেন না, বরং প্রকল্পের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করতে নিজে খাবার চেখে দেখলেন। রূপা গাঙ্গুলী রান্নাঘরে গিয়ে সরাসরি হেঁশেলের কাছে থেকে খাবারের স্বাদ, মান এবং স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখেছেন। এই উদ্যোগে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য চালু এই প্রকল্পের কার্যক্রমের প্রতি সম্পূর্ণভাবে সচেতন।
এই পরিদর্শনে তিনি দেখেছেন রান্নার পরিবেশ, খাদ্যের পুষ্টি ও মান কতটা সঠিকভাবে বজায় রাখা হচ্ছে। শুধু রকমারী মনিটরিং নয়, রূপা গাঙ্গুলী নিজে খাবার চেখে নিশ্চিত হয়েছেন যে, সাধারণ মানুষ যা পাচ্ছেন, তা নিরাপদ এবং মানসম্মত। এই পদক্ষেপ কর্মীদের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করছে, যাতে তারা খাবারের গুণমান বজায় রাখতে আরও দায়িত্বশীল হন। প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং মান নিয়ন্ত্রণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগে ‘মা ক্যান্টিন’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পটি এখন নতুনভাবে ‘মা আহার’ নামে চালু হয়েছে। রাজ্যজুড়ে মোট ৫০০টি কেন্দ্র থেকে সাধারণ মানুষ মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে খাবার পেতে পারছেন। নতুন এই প্রকল্পে এবার মাছ-ভাতের অন্তর্ভুক্তি হয়েছে, যা বাঙালির খাবার তালিকায় বিশেষ জনপ্রিয়। পুষ্টিকর হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের জন্য আরও উপযোগী। রূপা গাঙ্গুলীর সরাসরি অংশগ্রহণ প্রকল্পের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রূপা গাঙ্গুলী বলেন, “আমি চাই মানুষ যে খাবার পাচ্ছে, তা মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত হোক। তাই নিজে খাবার চেখে দেখেছি। এটি শুধু প্রতীকী নয়, প্রকৃত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখতে পাই কোথায় উন্নতির প্রয়োজন।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, তার উদ্দেশ্য প্রকল্পের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। সাধারণ মানুষও এতে আত্মবিশ্বাসী হচ্ছে যে, তাদের জন্য খাবার নিরাপদ।
আরও পড়ুনঃ এবার তৃণমূলের ‘বালতি চু*রি কাণ্ড’! সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ পৌরনিগমের লক্ষ লক্ষ বালতি উদ্ধার বেহালার পরিত্যক্ত জমি থেকে, বিক্রির অভি*যোগে কাঠগড়ায় তৃণমূল কাউন্সিলর কৃষ্ণা সিংহ!
সার্বিকভাবে, ‘মা আহার’ প্রকল্পে রূপা গাঙ্গুলীর এই পদক্ষেপ শুধু নজরকাড়া নয়। এটি একটি দায়িত্বশীল জননেতার উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের কর্মীরা এবং জনগণ দুই-ই এটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। মাছ-ভাতসহ অন্যান্য খাবারের মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।






