স্বজনবিয়োগের শোকে বিধ্বস্ত সলমন খান! শেষবারের মতো বিদায় জানাতে গিয়ে অঝোরে কেঁদে ফেললেন ভাইজান!

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সলমন খান পর্দায় যতটা কঠোর ও আত্মবিশ্বাসী চরিত্রে দেখা দেন, বাস্তব জীবনে তিনি যে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ মানুষ, তারই আরেকটি প্রমাণ মিলল সম্প্রতি। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কুমুদ রানের মৃত্যুতে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন অভিনেতা। মঙ্গলবার মুম্বইয়ের এক শ্মশানে কুমুদ রানের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান সলমন খান। শ্মশান থেকে বের হওয়ার সময় তাঁকে বারবার চোখের জল মুছতে দেখা যায়। প্রিয় বন্ধুকে হারানোর কষ্ট তাঁর মুখের অভিব্যক্তিতেই স্পষ্ট ধরা পড়ে। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

শেষকৃত্যের সময় সলমনের পরনে ছিল ধূসর রঙের একটি সাধারণ শার্ট। মুখে খোঁচা দাড়ি এবং চোখেমুখে ছিল গভীর শোকের ছাপ। শুধু সলমন নন, এই কঠিন সময়ে কুমুদ রানের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে উপস্থিত হয়েছিল গোটা খান পরিবার। অভিনেতার মা সলমা খান এবং হেলেনও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে পৌঁছেছিলেন। এছাড়াও ছিলেন সোহেল খান, আরবাজ খানের ছেলে আরহান খান এবং নির্বাণ খান। শোকের এই মুহূর্তে পরিবারের পাশে থাকতে দেখা যায় সীমা সাজদেহকেও। সকলেই কুমুদ রানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর স্মৃতিচারণ করেন।

খান পরিবারের সঙ্গে কুমুদ রানের সম্পর্ক ছিল বহু বছরের এবং অত্যন্ত আন্তরিক। পরিবারের বিভিন্ন সুখ-দুঃখের মুহূর্তে তিনি সবসময় পাশে ছিলেন। গত বছরের বর্ষবরণের উৎসবেও সলমন তাঁর এই প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন এবং সেই মুহূর্তের কিছু ছবি ও স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছিলেন। তাই হঠাৎ এই বিদায় অভিনেতার জন্য আরও বেশি কষ্টের হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ মহলেও কুমুদের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে সলমনের ব্যক্তিগত জীবনে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত মাসেই অসুস্থ কুমুদ রানেকে দেখতে মুম্বইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে গিয়েছিলেন সলমন খান। সেই সময় হাসপাতালের বাইরে পাপারাৎজ্জিদের অতিরিক্ত ভিড় এবং ছবি তোলার প্রবণতা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ক্যামেরার উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষও জানিয়েছিলেন অভিনেতা। পরে অবশ্য একটি সিনেমার সাফল্য উদযাপনের অনুষ্ঠানে পাপারাৎজ্জিরা তাঁর কাছে ক্ষমা চান। সেই ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে বন্ধুর শারীরিক অবস্থার অবনতি যে তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল, তা তখনই স্পষ্ট হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ ‘যে মেসির সঙ্গে চিপকে থাকে…’ দেওয়াল লিখন শেয়ার করে অরূপ বিশ্বাসকে নিশানা, জল্পনা বাড়ালেন ঋত্বিক! হঠাৎ কী এমন লিখলেন অভিনেতা?

গত কয়েক বছরে সলমন খানের জীবনে একের পর এক কঠিন সময় এসেছে। কখনও প্রাণনাশের হুমকি, কখনও আবার কাছের মানুষের মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। মাত্র মাসখানেক আগে তিনি হারিয়েছেন তাঁর ৪২ বছরের পুরনো বন্ধু সুশীল কুমারকে। তারও আগে বাবা সিদ্দিকীর হত্যাকাণ্ড অভিনেতাকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। বলিউডে দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যায়, বন্ধুত্বের বিষয়ে সলমন অত্যন্ত আন্তরিক এবং নিজের মানুষদের জন্য সবসময় পাশে থাকেন। কিন্তু একের পর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর চলে যাওয়া তাঁর জীবনে গভীর শূন্যতা তৈরি করছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর