বিনোদন জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বুধবার ভোরে চেন্নাইয়ের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক বিশিষ্ট নির্মাতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকপ্রকাশ করে তামিল ফিল্ম প্রডিউসার্স কাউন্সিল। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলচ্চিত্র জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে হারাল তামিল ইন্ডাস্ট্রি।
তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বহু শিল্পী ও চলচ্চিত্রকর্মী। পরিচালক অরুণ মাথেস্বরন স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি শুধু একজন সফল পরিচালক ছিলেন না, সিনেমাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতেন। নিজের প্রথম ছবিতে তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ খুশবু সুন্দরও আবেগঘন বার্তায় জানান, তাঁর তৈরি সিনেমাগুলি আগামী দিনেও নতুন প্রজন্মের কাছে শেখার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
গত কয়েক মাস ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ছেলে মনোজ ভারতীরাজার আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। মাত্র ৪৮ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মনোজ। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। এরপর থেকেই তাঁর স্বাস্থ্য আরও দুর্বল হতে থাকে। এর আগে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতেও হয়েছিল।
পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়েও তিনি নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। বিভিন্ন সময়ের একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও তিনি নিয়মিত অভিনয় করেছেন। মোহনলালের ‘তুদারুম’ ছবিতে তাঁকে শেষবারের মতো বড় পর্দায় দেখা যায়। এছাড়া তাঁর অভিনীত ‘পুলাভার’ এখনও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, যা অভিনেতা হিসেবে তাঁর শেষ কাজ হতে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘পরের অধ্যায় এবার হবে শুরু…’ দীর্ঘ ১০ বছরের লড়াইয়ের গল্প শোনালেন রাহুল দেব বোস! কোন নতুন শুরুর আভাস দিলেন অভিনেতা?
১৯৭৭ সালে ‘১৬ ভায়াথিনিলে’ ছবির মাধ্যমে পরিচালকের আসনে বসেছিলেন তামিলনাড়ুর কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা ভারতীরাজা। স্টুডিওর বাইরে গ্রামবাংলার বাস্তব জীবনকে ক্যামেরাবন্দি করে তিনি তামিল সিনেমায় নতুন ধারা নিয়ে আসেন। কর্মজীবনে ৪০টিরও বেশি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন তিনি। ‘কিলহাকে পোগুম রেল’, ‘সিগাপ্পু রোজাক্কাল’, ‘আলাইগাল ওইভাথিল্লাই’, ‘কাদাল ওভিয়াম’ এবং ‘মুথাল মারিয়াথাই’-এর মতো ছবি তাঁকে বিশেষ সম্মান এনে দেয়। চলচ্চিত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি পদ্মশ্রী সম্মান এবং ছয়টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছিলেন।






