২০২৬-এর ভরাডুবির পর কি বদলে গেল তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল? রাহুল-অভিষেকের ৮৮ মিনিটের বৈঠকে কি চূড়ান্ত হল বাংলার নতুন সমীকরণ?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অপ্রত্যাশিত ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে দলের একাংশের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে, অন্যদিকে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ নেতা নতুন রাজনৈতিক ব্লক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের লড়াইয়ের রণকৌশল কী হবে, তা নিয়ে নজর ছিল দিল্লিতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক বৈঠকের দিকে। আর সেই জল্পনার মধ্যেই কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্পর্ক নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলেছে।

ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে অংশ নিতে সম্প্রতি দিল্লি গিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে পৌঁছনোর পর থেকেই কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়। মঙ্গলবার কংগ্রেসের প্রবীণ নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, সেই বৈঠকেই ভবিষ্যতে দুই দলের রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে প্রাথমিক ঐকমত্য তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় এককভাবে লড়াইয়ের পক্ষে সওয়াল করে আসা তৃণমূল এবার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে এগোতে চাইছে বলেই সূত্রের খবর।

এরপর বুধবার আরও তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে বসেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ৮৮ মিনিট ধরে চলা এই বৈঠকে জাতীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয় যে, কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে জোটের বিষয়টি কার্যত চূড়ান্ত হয়েছে। সূত্রের দাবি, ইন্ডিয়া জোটের পরিসরে কংগ্রেসের নেতৃত্বকে মেনে নিয়ে একসঙ্গে পথ চলার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু জাতীয় রাজনীতিতেই নয়, প্রয়োজন হলে বাংলাতেও দুই দলের মধ্যে সমন্বয়ের পথ খোলা রাখা হচ্ছে।

আরো পড়ুন: স্বরাষ্ট্র থেকে বিদ্যুৎ নিজের হাতেই রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী! নতুন মন্ত্রিসভায় কে পেলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দফতর, প্রকাশ্যে সম্পূর্ণ তালিকা!

তবে এখনই আসন ভাগাভাগি বা নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হচ্ছে না। রাজনৈতিক সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান ভোটের সমীকরণ মাথায় রেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তৃণমূলের এখনও উল্লেখযোগ্য ভোটভিত্তি রয়েছে এবং সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েই ভবিষ্যতের কৌশল নির্ধারণ করা হবে। দুই দলের নেতৃত্বই আপাতত সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার কাঠামো তৈরি করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে আসন সমঝোতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা নেই।

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই কলকাতায় ফিরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ফেরার কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বৈঠক শেষে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তাও দিয়েছেন। যে কোনও রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে দিল্লির ধারাবাহিক বৈঠকের পর স্পষ্ট হয়েছে যে, বিরোধী রাজনীতির বৃহত্তর স্বার্থে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই সমীকরণ কতটা শক্তিশালী রূপ নেয় এবং বাংলার রাজনীতিতে তার কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

আরও অন্যান্য খবর