মুক্তির দিনেই বিতর্কের মুখে প্রতীক্ষিত ছবি! ‘অভিমান’ ঘিরে গল্প-চরিত্র চু’রির অভিযোগে, প্রসেনজিতের নামে! এবার মুখ খুললেন টলিউডের ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’, কী সাফাই দিলেন তিনি?

১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত নতুন ছবি ‘অভিমান’। ছবির ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ‘রকস্টার আকাশ চ্যাটার্জি’ চরিত্রে প্রসেনজিতের নতুন লুক এবং উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছে। ষাটোর্ধ্ব অভিনেতাকে একেবারে অন্য ধরনের চরিত্রে দেখে প্রশংসাও করেছেন অনেকে। তবে ছবির মুক্তির দিনই টলিউডে শুরু হয়েছে অন্য এক বিতর্ক। পরিচালক সুমন ঘোষের একটি পোস্টকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘অভিমান’। আর সেই বিতর্কে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও।

সুমন ঘোষের অভিযোগ, তাঁর ভাবনা থেকে তৈরি হতে যাওয়া ‘স্টার’ নামের একটি ছবির গল্প এবং মূল চরিত্রের সঙ্গে ‘অভিমান’-এর একাধিক মিল রয়েছে। পরিচালকের দাবি, শুধু গল্প নয়, চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এই অভিযোগ সামনে এনে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, গত আড়াই বছর ধরে এই ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর একাধিক আলোচনা হয়েছে। সুমনের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘স্টার’ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রও প্রসেনজিৎকে মাথায় রেখেই ভাবা হয়েছিল। সেই কারণেই ‘অভিমান’-এর ঝলক দেখে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

বিতর্ক প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায় ‘অভিমান’-এর প্রযোজনা সংস্থা। সংস্থার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “‘অভিমান’-এর মূল ভাবনাটি যিশু সেনগুপ্তর। সেখান থেকেই চিত্রনাট্য এবং সংলাপ তৈরি করেছেন শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। সুশৃঙ্খল, সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এই সিনেমা তৈরি হয়েছে।” প্রযোজনা সংস্থার দাবি, ছবির নির্মাণে নির্দিষ্ট সৃজনশীল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। ফলে অন্য কোনও কাজের ভাবনা ব্যবহার করার অভিযোগের সঙ্গে তারা একমত নয়। এই বিবৃতির পরও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থামেনি।

এরপর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, “পরিচালক হিসেবে সুমনের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আমাদের এই সিনেশিল্পে সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে অনেক সময় পারস্পারিক মিল দেখা দিতে পারে। কারণ আমরা সবাই মূলত মানুষের সর্বজনীন আবেগ ও বিষয়বস্তু থেকেই অনুপ্রেরণা নিই।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “তবে ‘অভিমান’ ছবিটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং আইনত নথিবদ্ধ করা প্রজেক্ট, যার নেপথ্যে রয়েছেন পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত এবং শ্রীজাত।” তাঁর বক্তব্য, এই ছবির সৃজনশীল দায়িত্ব মূলত নির্মাতাদের, আর অভিনেতা হিসেবে তাঁর কাজ ছিল চরিত্রটিকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা।

আরও পড়ুনঃ বিয়ের আগেই শাশুড়ির হাতের রান্না দিয়ে জামাইষষ্ঠী সারলেন সাহেব ভট্টাচার্য! সুস্মিতার বাড়ি, না অন্য কোথাও? পাত পেড়ে কী কী খেলেন অভিনেতা?

প্রসেনজিৎ আরও বলেন, “অভিনেতা হিসেবে আমার কাজ হল শুধু তা পর্দায় ফুটিয়ে তোলা। অন্য কারও সৃজনশীলতা ও বিশ্বাসের অমর্যাদা করার কোনও উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না। সুমনের প্রতি আমার শুভেচ্ছা রইল।” তাঁর এই মন্তব্যের পর বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। একদিকে সুমন ঘোষ তাঁর অভিযোগে অনড়, অন্যদিকে প্রযোজনা সংস্থা এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে ‘অভিমান’ এবং ‘স্টার’কে ঘিরে এই বিতর্ক আগামী দিনে কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর টলিউডের। মুক্তির দিনেই ছবির পাশাপাশি এই বিতর্কও স্টুডিওপাড়ায় বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর