রাজনৈতিক মিছিল, অবরোধ, দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ বা হিংসাত্মক বিক্ষোভে সরকারি কিংবা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হলে এবার শুধু ফৌজদারি মামলাতেই শেষ হবে না। ক্ষতির জন্য দায়ীদের ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। সেই লক্ষ্যেই পশ্চিমবঙ্গ মেনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট, ১৯৭২ সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। নতুন বিলে একটি স্বাধীন ক্লেমস কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে, যারা ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করবে।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সরকারি রাস্তা, সেতু, হাসপাতাল, স্কুল, বাস, ট্রাম, অফিসের পাশাপাশি বাড়ি, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নষ্ট হলেও ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে। শুধু ভাঙচুরে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিই নন, যাঁরা এই ধরনের ঘটনার পরিকল্পনা করেছেন, উসকানি দিয়েছেন, অর্থ জুগিয়েছেন বা আশ্রয় দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ক্ষতিপূরণ ধার্য করতে পারবে কমিশন।
সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরকে জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্ট, পুলিশি তদন্ত ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে কমিশনের সামনে আবেদন করা হবে। অন্যদিকে কোনও ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীর সম্পত্তির ক্ষতি হলে তিনিও সরাসরি কমিশনের কাছে আবেদন করতে পারবেন। কমিশনের হাতে সাক্ষী ডাকা, নথি তলব, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং বিশেষজ্ঞের মত নেওয়ার মতো ক্ষমতাও থাকবে।
ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ঠিক করার সময় সম্পত্তির বাজারমূল্য, ক্ষতির ধরন, মেরামতের খরচ, ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজনে মূল ক্ষতির পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণও ধার্য করা যাবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা না দিলে সেই অঙ্কের উপর সরল সুদ যোগ হবে। তারপরও টাকা না দিলে সরকারি খাজনা আদায়ের মতো আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে সেই অর্থ উদ্ধার করা যাবে।
আরও পড়ুনঃ দিল্লিতে জোর গুঞ্জন, বড় রদবদলের পথে মোদী সরকার! অর্থমন্ত্রী বদল থেকে শিক্ষামন্ত্রকে নতুন মুখ, কাদের ভাগ্যে খুলছে নতুন অধ্যায়? কোন ভূমিকায় দেখা যাবে নির্মলা সীতারামনকে?
নতুন বিলে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, একই ঘটনার জন্য ফৌজদারি মামলা চললেও ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া বন্ধ হবে না। সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সরকারি এবং বেসরকারি সম্পত্তির বড় ক্ষতি হয়েছে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হয়েছে। এই আইন কার্যকর হলে ভবিষ্যতে হিংসাত্মক আন্দোলন বা বিক্ষোভের ক্ষেত্রে দায়ীদের বিরুদ্ধে আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়া আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।






