শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। সম্প্রতি তাঁদের রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়ের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে দেখা যাওয়ার পর থেকেই নানা মহলে আলোচনা তুঙ্গে। গত কিছুদিন ধরে জনসমক্ষে তাঁদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছিল, তাঁরা কি তৃণমূলেই থাকবেন, নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক পথে হাঁটবেন। এই আবহেই বিজেপিতে তাঁদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়েও নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে কয়েকদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, রাজনীতিতে থাকতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। যদিও তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসনের কিছু কাজ নিয়ে তাঁর ইতিবাচক ধারণা রয়েছে। নাগরিক হিসেবে কোনও উন্নয়নমূলক কাজে পাশে থাকার সুযোগ এলে তিনি আপত্তি করবেন না বলেও জানান। একই সঙ্গে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময়কার কিছু অভিজ্ঞতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৈশাখীর দাবি, শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কথা তিনি একসময় সংশ্লিষ্ট মহলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল, সেই অভিযোগপত্রই তাঁদের কাছেই পৌঁছে গিয়েছিল। আরও গুরুতর অভিযোগ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল যখন ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতে তাঁর নাম শুনলেই ফোনের লাইন কেটে দেওয়া হতো। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীরভাবে হতাশ করেছিল বলেও জানান তিনি।
শোভন চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে বৈশাখী বলেন, তিনি কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান অস্বীকার করেননি। বরং সবসময়ই বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উত্থানের পেছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে বৈশাখীর অভিযোগ, পরবর্তীকালে তাঁকেই সামনে রেখে শোভনকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর মতে, শোভনের কাজ বা প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি, তবুও রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ ছোটবেলায় ছিলেন ভীষণ দু’ষ্টু! মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে, তারপর বদলে গেলেন সম্পূর্ণ! আশা ভোঁসলেকে নিয়ে স্মৃতিচারণ বন ঊষা মঙ্গেশকরের! প্রকাশ্যে আনলেন প্রয়াত শিল্পীর জীবনের অজানা অধ্যায়?
ভবিষ্যতে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আশাবাদী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, সুযোগ এলে শুভেন্দু অধিকারী শোভনের মতো অভিজ্ঞ নেতাকে কাজে লাগাতে পারেন। তিনি মনে করেন, একসময় দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মেদিনীপুরে সংগঠন শক্তিশালী করতে শোভন এবং শুভেন্দুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেই অভিজ্ঞতার মূল্য ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগতে পারে বলেও তাঁর দাবি।






