মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই শেষ নীল-সাদা “ইউনিফর্মের যুগ?” সরকারি স্কুলে ফিরছে হারানো ঐতিহ্য! বিশ্ববাংলা লোগোর বদলে আবারও নিজস্ব পরিচয়ে ফিরবে বাংলার স্কুল! শুভেন্দু সরকারের এই সিদ্ধান্তে কি সত্যিই ফিরবে স্কুলের পুরনো গরিমা?

শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, একটি বিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিচয়, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিও তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্কুলের ইউনিফর্ম সেই পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম চালু থাকার পর এবার সেই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়গুলিকে আবারও নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ইউনিফর্মে ফেরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শিক্ষা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এতে বিদ্যালয়গুলির নিজস্ব পরিচয় ও ইতিহাস আবারও সামনে উঠে আসবে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই রাজ্যের সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকার-পোষিত স্কুলগুলিতে একরকম নীল-সাদা ইউনিফর্মের বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না। পরিবর্তে প্রতিটি বিদ্যালয় তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, ইতিহাস ও প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিফর্মের রং ও নকশা নির্ধারণ করতে পারবে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজও শুরু করেছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর। সম্প্রতি শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত সচিবের স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশিকা জারি করে জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয় পরিদর্শকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিটি স্কুলের ইউনিফর্ম সংক্রান্ত তথ্য ও রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আগামী দিনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

নতুন সরকারের দাবি, একটি বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম শুধুমাত্র পোশাক নয়, বরং সেই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, গরিমা এবং ছাত্রছাত্রীদের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, রাজ্যের বহু পুরনো বিদ্যালয়ের নিজস্ব ইউনিফর্ম ছিল তাদের পরিচয়ের অন্যতম অংশ। কিন্তু কয়েক বছর আগে একক নীল-সাদা ইউনিফর্ম চালুর ফলে সেই স্বতন্ত্র পরিচয় অনেকটাই হারিয়ে যায়। তাই স্কুলগুলিকে আবার নিজেদের ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নিজেদের বিদ্যালয়কে ঘিরে আত্মপরিচয় ও গর্বের অনুভূতি আরও জোরদার হবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার সমস্ত সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলের জন্য একই ধরনের নীল-সাদা ইউনিফর্ম চালু করেছিল। সেই সময় বহু বিদ্যালয়ের নিজস্ব লোগোর পরিবর্তে নির্দিষ্ট লোগো ব্যবহারের নিয়মও কার্যকর হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন এবং অভিভাবকদের একাংশ আপত্তি তুলেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, প্রতিটি বিদ্যালয়ের নিজস্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে, তাই সবার জন্য এক ধরনের ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করা উচিত নয়। যদিও সেই সময় সরকার নিজেদের সিদ্ধান্তেই অনড় ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহু স্কুলের পক্ষ থেকেই পুরনো ইউনিফর্মে ফেরার দাবি সামনে আসে।

আরও পড়ুনঃ টলিউডের ফিরছে সোনালী দিন! বয়স বাড়লেও অভিনয়ের খিদে একই রকম, বড়পর্দায় জুটি বাঁধছেন মাধবী মুখোপাধ্যায় ও দীপঙ্কর দে! কোন ছবিতে দেখা যাবে এই বর্ষীয়ান শিল্পীদের?

এবার সেই দাবির প্রেক্ষিতেই সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ইউনিফর্মের রং বা নকশা বদলালেও পোশাক তৈরির দায়িত্বে থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির কাজের কোনও পরিবর্তন হবে না বলেই জানানো হয়েছে। আগের মতো তারাই ইউনিফর্ম তৈরির দায়িত্ব পালন করবে, ফলে তাঁদের কর্মসংস্থানে কোনও প্রভাব পড়বে না। শিক্ষা দপ্তরের আশা, নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে যেমন বিদ্যালয়গুলির হারিয়ে যাওয়া স্বাতন্ত্র্য ফিরে আসবে, তেমনই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও নিজেদের স্কুলের প্রতি আবেগ ও গর্ব আরও দৃঢ় হবে। এখন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই পরিবর্তন বাস্তবে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর