দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে চলা আন্দোলনের মধ্যে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন অভিনেতা জীতু কমল। সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান, ওয়াংচুক ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাই তাঁর বক্তব্য শোনা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার দায়িত্ব সরকারের রয়েছে বলেই মনে করেন অভিনেতা।
জীতু তাঁর পোস্টে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথাও তুলে ধরেছেন। দীর্ঘদিন অনশনে থাকার ফলে তাঁর ওজন প্রায় ৯ কেজি কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি রক্তচাপ কমে যাওয়া, শরীরের মাংসপেশী ক্ষয় এবং ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যার কথাও তিনি লিখেছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকারের আরও মানবিক ভূমিকার প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেছেন জীতু।
অভিনেতার বক্তব্য, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কি না, সেই রাজনৈতিক বিতর্কে তিনি যেতে চান না। তবে একজন ভারতীয় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের দাবিতে অনশন করছেন, সেই অবস্থায় অন্তত তাঁর সঙ্গে সরকারের একবার আলোচনায় বসা উচিত। মতের অমিল থাকলেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংলাপের গুরুত্ব রয়েছে বলেই তিনি মনে করেন।
জীতু কমল তাঁর পোস্টে সোনম ওয়াংচুকের দীর্ঘদিনের সামাজিক অবদানের কথাও তুলে ধরেন। লাদাখের প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার প্রসার, বাস্তবমুখী শিক্ষার প্রচলন এবং পরিবেশ রক্ষায় তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে জলসংকট মোকাবিলায় ‘আইস স্তূপা’ প্রকল্প আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশংসা পেয়েছে বলে স্মরণ করিয়ে দেন অভিনেতা।
আরও পড়ুনঃ মাথার উপর বট গাছের ছায়া গেল সরে! ফুসফুস ক্যা*ন্সারে নরক য’ন্ত্রণার পর প্রয়াত টোটা রায়চৌধুরীর বাবা! শোকে মূহ্যমান অভিনেতা!
পোস্টের শেষ অংশে জীতু বলেন, সোনম ওয়াংচুকের সব মতের সঙ্গে সবাই একমত হতেই হবে এমন নয়। কিন্তু দেশের একজন সম্মানিত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীর বক্তব্য শোনা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা হওয়া উচিত। মতভেদ থাকলেও সংলাপই গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ বলেই তিনি নিজের মত প্রকাশ করেছেন।






