নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলনের মিছিলে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের হাতে থাকা একটি পোস্টারকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়েরের পর সোমবার রাজ্যের আরও তিনটি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। পুরুলিয়া সদর থানা, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানা এবং ঠাকুরপুকুর থানায় পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় অভিনেত্রীকে ঘিরে আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এর আগে রবিবার আনন্দপুর ও বিধাননগর সাইবার থানায় শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। তাঁর দাবি, নিট আন্দোলনের মিছিলে অভিনেত্রীর হাতে থাকা পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আপত্তিকর ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি। সোমবারও বিভিন্ন জেলায় বিজেপির পক্ষ থেকে একই অভিযোগ তুলে নতুন করে থানায় আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার কলকাতায় নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন শ্রীলেখা মিত্র। সেই সময় তাঁর হাতে থাকা একটি পোস্টারের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, পোস্টারে প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ও কুরুচিকর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় এবং সামাজিক মাধ্যমে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে একাধিকবার বিতর্কের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী।
নতুন করে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেন শ্রীলেখা। তিনি জানান, পুরো ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির ফল। তাঁর দাবি, তিনি বিজেপির রাজনৈতিক বিরোধিতা করলেও কখনও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করার উদ্দেশ্য ছিল না। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় ভিড়ের মধ্যে তাড়াহুড়োয় পোস্টার বেছে নেওয়াতেই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আরও পড়ুনঃ দই ও মিষ্টি দেবে, কিন্তু চকলেটের ভাগ হবে না! মন জিতল কৃষভির কাণ্ড! ভাইকে প্রথম দেখায় কী প্রতিক্রিয়া ছোট্ট দিদির? নবজাতকের ডাকনাম কী রাখলেন কাঞ্চন-শ্রীময়ী?
অভিনেত্রীর আরও বক্তব্য, সেদিন তিনি চশমা সঙ্গে নিতে ভুলে গিয়েছিলেন এবং শুধুমাত্র সানগ্লাস থাকায় পোস্টারে কী লেখা বা কী ছবি রয়েছে তা স্পষ্টভাবে দেখতে পারেননি। তিনি জানান, ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে একের পর এক থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার ঘটনায় এই বিতর্ক এখন আরও বড় আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।






