জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে চাঞ্চল্যকর অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সীমান্ত লাগোয়া কুকুর জান এলাকায় নিজের চা বাগানে কাজ করার সময় দীপঙ্কর গোপ নামে ৩৫ বছরের এক চা চাষিকে একদল বাংলাদেশি দুষ্কৃতী ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। দীপঙ্করের বাড়ি চাউল হাটি সীমান্ত গ্রামের তসর পাড়ায়। তাঁর পরিবারে বাবা, স্ত্রী এবং দুই ছেলে রয়েছেন। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
পরিবারের দাবি, কয়েক দিন আগে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে কাঁটাতারের বেড়া কেটে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেছিল এক বাংলাদেশি নাগরিক। বিএসএফ তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপরই ওই চোরাচালানকারী দলের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরিবারের অভিযোগ, সেই ঘটনার বদলা নিতেই দীপঙ্করকে অপহরণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে নিজের প্রায় ছয় বিঘা চা বাগানে কীটনাশক স্প্রে করছিলেন তিনি। সেই সময় আচমকা একটি বড় দল সেখানে ঢুকে তাঁকে জোর করে বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
দীপঙ্কর বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয় বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিএসএফ। তবে তার আগেই দীপঙ্করকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশের পঞ্চগড় এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে উদ্ধারের জন্য বিএসএফের তরফে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দুই বাহিনীর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিংও হয়। তবে রাত পর্যন্ত ওই ভারতীয় চা চাষিকে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি।
এরই মধ্যে দীপঙ্করের একটি ভিডিয়ো সামনে এসেছে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশের যে ব্যক্তিকে আগে আটক করা হয়েছিল, তাঁকে ছেড়ে দিলে অপহরণকারীরা তাঁকেও ছেড়ে দেবে। যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। দীপঙ্করের বাবা মিছরি লাল গোপের দাবি, প্রায় ২০ জনের একটি দল তাঁর ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। বর্তমানে দীপঙ্কর বাংলাদেশের বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে দ্রুত এবং সুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরানোর জন্য বিএসএফের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ গুপী ও বাঘার অজানা ইতিহাস এবার বড় পর্দায়! সত্যজিৎ রায়ের জুতোয় পা গলিয়ে, ‘মহারাজা তোমারে সেলাম’-এর ঘোষণা সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের! কালজয়ী ছবির সঙ্গে টেক্কা দিতে পারবে কি? গল্পের মূলে থাকছে কোন ঘটনা?
ঘটনায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নুরেন মালাকার জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও দীপঙ্করকে ফেরানো হয়নি। তাঁর আশঙ্কা, সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের ঘটনা আরও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তিনি জানান, গ্রামের বহু মহিলা নিয়মিত সীমান্তের কাছে বিভিন্ন কাজে যান। ফলে একজন পুরুষকে এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের কাছে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।






