২০২৪ সালের ১৫ জুলাই বিয়ে করেছিলেন শোভন গঙ্গোপাধ্যায় ও সোহিনী সরকার। বিয়ের পর কেটে গিয়েছে প্রায় তিন বছর। তৃতীয় বিবাহবার্ষিকীর দিনই অনুরাগীদের সুখবর দেন তাঁরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, তাঁদের পরিবারে এবার নতুন সদস্য আসতে চলেছে। যদিও বেশ কিছুদিন ধরেই সোহিনীর মা হওয়ার খবর নিয়ে জল্পনা চলছিল, তবে নিজেরা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। শেষ পর্যন্ত বিবাহবার্ষিকীর বিশেষ দিনেই ‘২ থেকে ৩ হওয়ার পথে’ বলে সুখবর ভাগ করে নেন শোভন ও সোহিনী।
এখন কেমন কাটছে সোহিনীর মাতৃত্বের সফর? সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এসে নিজের প্রেগন্যান্সি নিয়ে কথা বলেন অভিনেত্রী। সোহিনী জানান, এই সময়টা তাঁর কাছে একেবারেই নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা। শরীরের পাশাপাশি মনেরও অনেক পরিবর্তন হচ্ছে। এমনকি আশেপাশের মানুষ তাঁকে যেভাবে দেখতেন, সেই দৃষ্টিভঙ্গিতেও বদল এসেছে বলে জানান অভিনেত্রী। সব মিলিয়ে এই নতুন অনুভূতিকে বেশ উপভোগই করছেন তিনি। তবে এই পুরো সময়টায় তাঁর পাশে রয়েছেন স্বামী শোভনও।
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে বেশ দায়িত্বশীল শোভন। সোহিনীর কথায়, এখন তিনি নিজের হাতে রান্না করে খাওয়াচ্ছেন এবং বউকে কোনওভাবেই রাগতে দিচ্ছেন না। আগে তাঁদের মধ্যে মতের অমিল বা তর্ক হতো। কিন্তু এখন সোহিনী কিছু বললেই শোভন নাকি সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভুল স্বীকার করে নেন। অভিনেত্রীর কথায়, স্বামী যদি আগেই বলে দেন যে ভুল তাঁরই, তাহলে সেটাকে আদর আর যত্ন ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়! শোভনের এই ব্যবহারে যে সোহিনী বেশ খুশি, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
প্রেগন্যান্সির সময়েও অবশ্য কাজ থেকে পুরোপুরি দূরে থাকেননি সোহিনী। অভিনেত্রী জানান, প্রথম ট্রায়মেস্টারেই ‘বহুরূপী’র শুটিং করেছেন। এরপর ‘হইচই’তে আসন্ন কাজের জন্যও ব্যস্ত শিডিউলে কাজ করেছেন। প্রায় ১৮ দিনের ব্যস্ত শুটিংয়ের পাশাপাশি ছিল ডাবিং এবং বিভিন্ন ছোটখাটো ইভেন্ট। তাই বাড়িতে থেকে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ খুব একটা পাননি। তবে কাজের জায়গাটাকেই তিনি মানসিকভাবে স্বস্তির জায়গা বলে মনে করেন। বাড়িতে ফিরলে অবশ্য পর্যাপ্ত ঘুমিয়েছেন বলেই জানান সোহিনী।
আরও পড়ুনঃ কিছুদিন আগেই কোলে বসে রোমান্স, এবার লাদাখে শুটিং শেষে কলকাতায় ফিরেই একে অপরের বাহুডোরে দেব ও শুভশ্রী! বিমানবন্দরের ‘দেশু’র উষ্ণ আলিঙ্গনের ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল!
এদিকে নতুন অতিথিকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন শোভন ও সোহিনী। বাড়ির জায়গা খালি করা থেকে শুরু করে পোশাক গোছানো, সবকিছু নিয়েই চলছে পরিকল্পনা। সোহিনী জানিয়েছেন, যে জামাকাপড় আগামী কয়েক মাস ব্যবহার হবে না, সেগুলি শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন তাঁরা। আপাতত অনাগত সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছেন হবু মা-বাবা। প্রায় দেড় বছর প্রেমের পর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। কলকাতার এক ফার্মহাউজে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে আইনি বিয়ে হয় শোভন ও সোহিনীর। মালাবদল ও সিঁদুরদানের রীতিও পালন করেছিলেন তাঁরা।






