দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন পরিচালক রাজা সেন। চলতি বছরের শুরুতে কোমরে অস্ত্রোপচারও হয়েছিল তাঁর। এরপর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে। গত দুদিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা হল না পরিচালকের।
রাজা সেনের শারীরিক অবস্থার খবর নিয়মিতই জানাতেন তাঁর স্ত্রী তথা অভিনেত্রী পাপিয়া সেন। সম্প্রতি স্বামীর দ্রুত সুস্থতার জন্য সকলের কাছে প্রার্থনার আবেদনও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রবিবার এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজা সেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। পরিচালকের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে নেমে আসে শোকের ছায়া। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতি মনে করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সহকর্মী ও অনুরাগীরা।
রাজা সেনের মৃত্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পরিচালকের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, একজন কিংবদন্তির বিদায় সবসময়ই অত্যন্ত কষ্টের। বাংলা চলচ্চিত্রে রাজা সেনের অবদানকে অমূল্য বলে উল্লেখ করেন অভিনেতা। শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রয়াত পরিচালককে স্মরণ করে প্রসেনজিৎ আরও জানান, তাঁর সৃষ্টি ও স্মৃতি আগামী দিনেও মানুষের মনে থেকে যাবে। প্রিয় পরিচালকের প্রয়াণে তাঁর এই বার্তায় ফুটে উঠেছে গভীর শ্রদ্ধা ও শোক।
‘দামু’ ছবির মাধ্যমে পূর্ণদৈর্ঘ্যের সিনেমা পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন রাজা সেন। এরপর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ছবি পরিচালনা করেছেন তিনি। তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘দেশ’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’, ‘একদিন প্রতিদিন’, ‘মায়া মৃদঙ্গ’, ‘দীপশিখা’, ‘আত্মীয়-স্বজন’ এবং ‘তিন মূর্তি’। সিনেমার পাশাপাশি বাংলা টেলিভিশনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তাঁর পরিচালনায় তৈরি ‘সুবর্ণলতা’ ১৯৯৭ সালে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ ‘জিৎদা আমার দুর্বলতা… গোলাপ আর গাঁদা ফুলের মধ্যে যেমন পার্থক্য রয়েছে, তেমনই জিৎ এবং কাঞ্চনের জায়গাও আলাদা!’ মোহনার কাছে আগেই ক্ষমা চাইলেন শ্রীময়ী, জিৎকে নিয়ে ফাঁস করলেন মনের কথা?
চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি তথ্যচিত্র নির্মাণেও বিশেষ পরিচয় তৈরি করেছিলেন রাজা সেন। ১৯৯২ সালে সংগীতশিল্পী সুচিত্রা মিত্রকে নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্রের জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলা বিনোদন জগতে একাধিক স্মরণীয় কাজ উপহার দিয়েছেন এই পরিচালক। তাঁর প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্র হারাল এক অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতাকে। তাঁর সৃষ্টি ও কাজ আগামী দিনেও দর্শক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে বিশেষ জায়গা ধরে রাখবে।






