হয়তো ক্রিকেট তাঁর নসিবে ছিল না তাই নাম করতে পারেননি। কিন্তু বিখ্যাত হওয়াটা মনে হয় তার ভাগ্যেই ছিল। তাই আজ আগুনের কবল থেকে ৪০ জনকে বাঁচিয়ে সত্যিকারের নায়ক হলেন রনজি খেলা ক্রিকেটার আকিব শেখ। মাত্র ২০ বছর বয়সেই আকিব মুম্বইয়ের রনজি দলে জায়গায় পেয়েছিলেন বটে, তবে তার খেলার কৌশল কাউকে মুগ্ধ করতে পারেনি। ২৫ ওভার বল করে একটিও উইকেট তুলতে পারায় তাঁর প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট আর খেলা হয়নি। তবে ফিরে আসার চেষ্টার কোনো কমতি রাখেননি। এরপর সব চেষ্টাই বিফলে গেল। ধীরে ধীরে তিনি তলিয়ে গেলেন বিস্মৃতির অন্তরালে।
তবে এবার ক্রিকেটের ময়দানে নয়, বরং রিয়াল লাইফে তিনি তার কৌশলের প্রদর্শন করেছেন। মুম্বইয়ের পশ্চিমে কল্যাণ এলাকার একটি বহুতলে আগুন লেগে গেলে তাতে জনা চল্লিশেক মানুষ আটকে পড়েন। তখন আবাসনের প্রতিটি বাসিন্দাকে উদ্ধার করতে ছুটে আসে আকিব ও তাঁর দুই বন্ধু আদনান খান ও দানিশ খান।
সম্বল ছিল একটি কাঠের মই । তা দিয়েই বিল্ডিংয়ে উঠে বাসিন্দাদের বাঁচিয়ে আনেন তাঁরা। নিজেদের জীবন বাজি রেখে ৪০ জন মানুষকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেন। যে বিল্ডিংয়ে আগুন লেগেছিল সেটির নাম চার্ম স্টার। ছতলায় আগুনের ভয়াবহতা ছিল বেশি। তাই ছ’তলাতেই ৪০ জন আটকে পড়েছিলেন। আকিব ও তাঁর দুই বন্ধু মিলে ছতলা থেকে সবাইকে বার করে আনেন। আকিব নিজেও চার্ম স্টার বিল্ডিংয়ের ছতলাতেই থাকেন। তিনি দুঃসময়ে কিন্তু নিজের ফ্লোরেরও কাউকে ফেলে পালাননি।
কাঠের মইয়ের সাহায্যে পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদে ওই ৪০ জন বাসিন্দাকে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৯ বছর বয়সী আকিব বলছিলেন, ”সারাদিন লাইট ছিল না। সন্ধ্যের দিকে কারেন্ট এলে আমি মোবাইল চার্জ দিতে যাই। তখনই দেখি মা চিৎকার করছেন। চারিদিকটা আগুনের ধোঁয়ায় ঢেকে গেছিল। কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এরপর বন্ধুদের ফোন করলে ওরা প্রায় সঙ্গে সঙ্গে চলে আসে। আমরা তিনজন মিলে সবাইকে উদ্ধার করতে পেরেছি। সঠিক সময় বিপদ এড়ানো গেছে। আমাম মা, ঠাকুরমা, স্ত্রী সেই সময় ঘরেই ছিলেন। এত ধোয়া যে দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছিল।”






