তিনি কথা দিয়েছিলেন, তিনি কথা রেখেছেন। ঘূর্ণিঝড় আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার টুইট বার্তায় তিনি জানালেন, প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাড়ি সারাইয়ের জন্য আমফান বিধ্বস্ত পাঁচ লাখ মানুষ, ফসলের ক্ষতি বাবদ ২৩.৩ লাখ কৃষক এবং দু’লাখ পান চাষিকে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে। সবমিলিয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত ১,৪৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
তিনি অবশ্য ভেবেছিলেন, আমফান বিধ্বস্তদের সাহায্যের জন্য প্রাথমিকভাবে ১,৩৫০ কোটি টাকা লাগবে। রাজ্যের কাজের খতিয়ান যেমন তুলে ধরেছেন তেমনই জানিয়েছেন করোনা পরিস্থিতিতেও সাধারণ মানুষ যেভাবে আমফান বিধ্বস্তদের জন্য এগিয়ে এসেছে তাতে তিনি অভিভূত।
তিনি জানান, করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে রাজ্যে সুপার সাইক্লোন আমফান আছড়ে পড়েছিল। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজ্যবাসী ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাজ্য সরকার ঝাঁপিয়ে পড়ায় দুর্গতদের জন্য ত্রাণ ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু করা গিয়েছে।
https://twitter.com/MamataOfficial/status/1267797317039480832?s=20
তবে শুধু মুখের কথা নয়, প্রশাসনিক স্তরে কতটা কাজ করা হয়েছে, তাও নজর রাখছে নবান্ন। যে জেলাগুলি আমফানে বিধ্বস্ত হয়েছে, মঙ্গলবার সেই জেলাগুলির জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। খতিয়ে দেখেন ত্রাণ ও পুনর্গঠনের কাজ।
পরে তিনি জানান, জেলাশাসকদের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাঠানো হয়েছে। যাঁদের বাড়ি ভেঙেছে, তাঁদেরও টাকা পাঠানো হয়েছে। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে আইএফএসসি কোড বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর না পাওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আগামী দু’দিনে পুরো বিষয়টি মিটে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যসচিব। মাত্র ১২ দিনের মধ্যে যেভাবে ৩০ লাখ মানুষকে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে, তা অনেক বড় ব্যাপার বলে মনে করছেন মুখ্যসচিব।
পাশাপাশি তিনি জানান, বুধবার থেকে মৎস্যজীবী, পশুপালক এবং প্রাণীসম্পদ পালনকারীদের সাহায্যের কাজ শুরু হবে। তারপর ধাপে ধাপে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে বাড়ি তৈরির টাকা, কৃষক বন্ধুর মতো প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে। সবকিছু প্ল্যানমাফিকই এগোচ্ছে রাজ্য যাতে সবাই সাহায্য পান।





