রাজস্থানে টালমাটাল কংগ্রেস! রাজ্যসভার ভোটের আগে হঠাৎই সরগরম জাতীয় রাজনীতি। সংসদের উচ্চকক্ষের ভোটের আগে রাজস্থানে তাঁদের সরকারকে উপরে ফেলার চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলে বুধবার থেকে লাফালাফি শুরু করেছে কংগ্রেস। শিবির বদলের জন্য দলের বিধায়কদের অর্থ ও পদের টোপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতীয় কংগ্রেস। সরাসরি কিছু না বলা হলেও অভিযোগের তীর মূলতই প্রতিপক্ষ দল বিজেপির দিকে। প্রত্যাশামতোই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে পদ্ম শিবির।
এর আগে গুজরাতে বিরোধী কংগ্রেস দলে ভাঙ্গন ধরানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল শাসক বিজেপির বিরুদ্ধে। কংগ্রেস নেতৃত্ব গুজরাতে যখন ঘর আগলাতে ব্যস্ত তখন তাঁদের নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে রাজস্থান। এই রাজ্যে সরকারের অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে।
রাজস্থানে বর্তমানে কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ১০৭ জন। এর মধ্যে ৬ জন গত বছর মায়াবতীর BSP ছেড়ে ‘হাত’ ধরেছিলেন। এ ছাড়া ১২ জন নির্দল বিধায়ক রাজস্থানে কংগ্রেস সরকারকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে, বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৭২। সেইসঙ্গে সহযোগী ও নির্দল মিলিয়ে আরও ৬ জন পদ্ম শিবিরে আছেন।
আগামী ১৯ জুন রাজ্যসভায় রাজস্থানের আসনগুলির মধ্যে তিনটিতে ভোট নেওয়া হবে। এর মধ্যে বিধানসভায় আসন সংখ্যার নিরিখে দু’টি আসনে কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত। অপর আসন বিজেপির ঝুলিতে যাবে। এমন একটি নিশ্চিত ফলাফলের ভোটের আগেও নিশ্চিন্তে বসে থাকার জো নেই কংগ্রেসের নেতাদের। কারণ দলের সমস্ত বিধায়ক শেষ পর্যন্ত কতটা অনুগত থাকবেন, সে বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হতে পারছেন না তাঁরা।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের ছোবল থেকে ঘর ও সরকার বাঁচাতে ময়দানে নেমে পড়েছেন কংগ্রেস হাইকমান্ড। রাজ্যের সমস্ত বিধায়ককে দিল্লি-নাগপুর হাইওয়ের কাছে একটি রিসর্টে আনা হয়েছে। জট কাটাতে দিল্লি থেকে রাজস্থানে ছুটে গিয়েছেন রণদীপ সুরজেওয়ালা এবং কেসি ভেণুগোপালের মতো শীর্ষ কংগ্রেস নেতা। রিসর্টে গিয়ে দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক তাঁরা করেছেন বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ করে রাজ্যের অ্যান্টি-কোরাপসন ব্যুরোর প্রধানকে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজস্থান বিধানসভায় কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক মহেশ যোশী।





