ফুলবাগান কান্ড: ৬০০০০ টাকায় অমিতের হাতে পিস্তল তুলে দিয়েছিল বিহারের যুবক, ধরা পড়ল পুলিশের জালে

ফুলবাগান কাণ্ডে পুলিশের জালে ধরা পড়ল আরও একজন। ধৃত যুবকের নাম পৃথ্বী সাগর। নওদার বাসিন্দা এই যুবক ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে পঙ্কজকে একটি বন্দুক দেয়। পঙ্কজ কলকাতায় সেই বন্দুকটিই এনে অমিত আগরওয়ালকে দেয়। মঙ্গলবার ভোররাতে পঙ্কজকে ধরেছিল পুলিশ। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়ল পৃথ্বী। এই নিয়ে ফুলবাগান কান্ডে মোট দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জুন মাসের মাঝামাঝি ফুলবাগানের এই নৃশংস হত্যাকান্ডে চমকে উঠেছিল গোটা কলকাতা! অমিত আগরওয়াল নামে একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট তাঁর শাশুড়িকে খুন করেন। শাশুড়িকে ছয় এমএম পিস্তল দিয়ে গুলি করে খুন করে নিজে আত্মঘাতী হন জামাই অমিত। এই ঘটনায় পুলিশ অমিতের পরিবারের খোঁজ করতে গিয়ে বেঙ্গালুরুতে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় তাঁর স্ত্রী যিনি পেশায় একজন অ্যাকাউন্টান্ট ছিলেন, পরে অবশ্য চাকরি ছেড়ে দেন তাঁকেও খুন করে এসেছেন অমিত।

এই পিস্তল অমিত কোথায় পেয়েছিল পুলিশ তারই অনুসন্ধান করছিল। প্রায় ১৮ দিন পর সেই রহস্য ভেদ করল পুলিশ। অমিত এই রিভলবার কিনেছিল বিহারের বাসিন্দা পঙ্কজ কুমার প্রসাদের কাছ থেকে। ‌মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ বিহারের নওদা জেলায় তাঁর বাড়ি থেকে পঙ্কজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে তোলা হলে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।

গত মার্চ মাসে অমিতকে রিভলভার দিতে কলকাতায় দত্তাবাদের ফ্ল্যাটে এসেছিল পঙ্কজ। এরপর রিভলবারটি সেই ফ্ল্যাটেই রেখে বেঙ্গালুরুতে ফিরে যান অমিত। সেখানে গত মাসের মাঝামাঝি নিজের স্ত্রীকে খুন করেন তিনি এবং ছেলেকে নিয়ে চলে আসেন কলকাতায়। কলকাতায় ফেরার পর ছেলেকে নিজের ভাইয়ের কাছে পৌঁছে দেন অমিত এবং দত্তাবাদের ফ্ল্যাট থেকে রিভলবারটি নিয়ে শ্বশুরবাড়ির দিকে রওনা দেন।এখানকার রামেশ্বরম আবাসনে গিয়ে শ্বশুরের সামনেই শাশুড়িকে গুলি করে খুন করেন অমিত। তারপর নিজে আত্মঘাতী হন।

পঙ্কজকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিস প্রাথমিকভাবে এই তথ্য পেয়েছে। পঙ্কজের বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত অমিত আচমকা কোনও সিদ্ধান্ত নেননি।

তার সুইসাইড নোট থেকে জানা গিয়েছে যে, অমিত প্রথমে নিজে খুন করতে চাননি। সুপারি কিলারের খোঁজে তামিলনাড়ু এবং বিহার গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু লকডাউন হয়ে যাওয়ার ফলে সুপারি কিলার দিয়ে খুনের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এদিকে অশান্তি দিনদিন বাড়তে থাকে। তাই নিজেই খুন করার পরিকল্পনা করেন অমিত। ‌পরিকল্পনা করেই জোড়া খুন করেন। তারপর নিজে আত্মঘাতী হন।

এতদিন পুলিশ বুঝতে পারছিল না যে অমিতকে কে কীভাবে এই নৃশংস ঘটনা ঘটাতে সাহায্য করেছিল। এই দুই গ্রেফতারির পর ফুলবাগান তদন্তের জাল খুব শীঘ্র গুটিয়ে আনতে চলেছে পুলিশ।

RELATED Articles

Leave a Comment