গতবছর কেন্দ্রীয় সরকার মুসলিম সম্প্রদায়ের তিন তালাক প্রথা আইন করে নিষিদ্ধ করে এবং এই সম্বন্ধীয় একটি অর্ডিন্যান্সও জারি করা হয় সরকার থেকে। যদিও তিন তালাক প্রথাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছিল আজ থেকে তিন বছর আগেই। এবার এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করলেন এক মুসলিম মহিলা যিনি পেশায় একজন আইনজীবী! তাঁর দাবি এই আইনের ফলে মুসলিম মহিলাদের নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে তাদের ক্ষতি করাই হচ্ছে।
সোমবার বিচারপতি এন ভি রামনের নেতৃত্বাধীন এবং বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি কৃষ্ণ মুরারিকে নিয়ে গড়া সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ নূরবীণা রশিদ নামে ওই মহিলার আবেদনের ভিত্তিতে একটি নোটিশ জারি করেছে। এই আবেদনটি মুসলিম নারী (বিবাহ অধিকারের সুরক্ষা) আইনের বিরুদ্ধে আরও নয়টি সমগোত্রীয় আবেদনের সঙ্গেই শুনানি হবে।
নূরবীণাই প্রথম মহিলা যিনি কেন্দ্রীয় সরকারের এই আইনের বিরোধিতা করে মামলা দায়ের করলেন।নূরবীণার আইনজীবী জুলফিকর আলি জানিয়েছেন, ‘তিন তালাক বিরোধী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এই প্রথম কোনও মহিলা শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আমরা এই আবেদনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের সামনে প্রমাণ করতে চাই যে এই আইনটা আসলে মুসলিম মহিলাদের পক্ষে ক্ষতিকারক।”
২০১৭ সালে স্বামী পরিত্যক্তা পাঁচ মুসলিম মহিলার করা আবেদনের ভিত্তিতে তিন তালাক প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সর্বোচ্চ আদালত। ২০১৯ সালে পাশ করা আলোচ্য আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই আইনে নির্যাতিতার তরফে তাঁর কোনও আত্মীয়ও অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেন।
নূরবীণা এই প্রশ্ন করেছেন যে, তিন তালাক আইনে উল্লিখিত বিবাহ বিচ্ছিন্নার কোনও আত্মীয়ের দ্বারা মামলা দায়ের করার ব্যবস্থা আদৌ প্রয়োজনীয় কি না। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থা নির্যাতিতাকে অপমান তো পড়ছেই সেই সঙ্গে বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানটিরও অবমাননা করছে।
আবেদনকারী নূরবীণা নিজেও পেশায় আইনজীবী এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন উওমেন’স লিগ সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এই সংগঠন কেরালার ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ-এর (IUML) সঙ্গে যুক্ত।





