নামি তারকার দামি হাসপাতাল, সাধারণ মানুষ রাস্তায়, দেশের অসম করোনা চিত্রে উঠছে প্রশ্ন

সেলিব্রিটি হলে সুসজ্জিত কেবিন, আম আদমি-র স্থান মাটিতে। হ্যাঁ, করোনাতে এখন এরকমই অবস্থা এই দেশের। বিগত দু’দিনে বলিউড-টলিউড এর নামকরা কিছু তারকার সংক্রমণের খবর এসেছে। পরশুদিন অভিনেতা বাবা রঞ্জিত মল্লিক, প্রযোজক স্বামী নিসপাল সিং রানে, মা দীপা মল্লিক সহ নিজের করোনা সংক্রমণের খবর টুইট করেছিলেন বাংলার প্রথম সারির অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। গতকাল রাতে বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ও তাঁর পুত্র অভিনেতা অভিষেক বচ্চনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। সেই নিয়ে চলছে বিশাল হৈ-চৈ। সোশ্যাল দুনিয়া ভরে উঠছে তাঁদের আরোগ্য কামনায়। বিগ বি সুস্থ হয়ে উঠুন এই প্রার্থনা নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ভরিয়ে দিচ্ছেন নেটিজেনরা। না এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু এই সেলিব্রিটিরা সঙ্গে সঙ্গেই ভর্তি হচ্ছেন নানা নামী হাসপাতালে। সপরিবারে কোয়েল মল্লিক হোম কোয়ারেন্টাইন আছেন ঠিকই কিন্তু চিকিৎসা পরিষেবাও মিলেছে দ্রুত। বচ্চন পরিবারের দুই পুরুষ সদস্য ভর্তি রয়েছেন মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে।

এ তো গেল প্রদীপের দিক। এবার প্রদীপের তলায় অন্ধকারের দিকের কথা বলা যাক। সাধারণ মানুষ করোনা হলে চিকিৎসা পাচ্ছেন কোথায়? সম্প্রতি ইছাপুরের এক উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া করোনা আক্রান্ত হয়ে কলকাতার তিন হাসপাতাল ঘুরে কোথাও বেড পেল না, তার মা আত্মহত্যার হুমকি দিলে মেডিকেল কলেজে তাকে গড়িমসি করে ভর্তি নেওয়া হয়, তার পরেই তাঁর করুণ মৃত্যুতে সামান্য হলেও তোলপাড় পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তোলপাড় ফেলেছিল সংবাদমাধ্যমেও। কলকাতায় চিকিৎসা ব্যবস্থা যাও বা একটু ভালো সেখানে জেলার অবস্থা তো তথৈবচ। জেলার কোন মানুষ যদি নিজের মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখতে পান তবে তিনি কিন্তু জানেনও না পরীক্ষা তিনি কোথায় করবেন, চিকিৎসা পাওয়া তো দূরের কথা।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় দুটো লাইন এখন ভাইরাল। “সেলিব্রিটি হলে টুইট, গরীব হলে কুইট” কথাটা যে কি নিদারুণ সত্যি তা সাধারণ মানুষ যাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন অথবা যাঁদের কোনও পরিচিত বা আত্মীয় আক্রান্ত তাঁরা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন। আমাদের দেশ যে গরিব ও বড়লোক সবকিছুর বিভাজন করে তা আরো একবার যেন করোনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল। মানুষের শরীরের গঠনও এক, রোগটাও একই কিন্তু চিকিৎসা পরিষেবা দুই ধরনের মানুষের জন্য আলাদা। আজ নামী তারকারা করোনা আক্রান্ত হয়ে সরাসরি চিকিৎসা পাচ্ছেন নামীদামী হাসপাতালে। সেলিব্রিটিদের সকালবেলা করোনা টেস্ট হলে বিকেলের মধ্যেই চলে আসছে রিপোর্ট। তাঁদের জন্য শুভেচ্ছা প্রার্থনায় ভরে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া। অন্যদিকে কলকাতার মানুষের করোনা টেস্ট হলে রিপোর্ট আসতে লাগছে দু-তিনদিন। জেলায় তো তারও বেশি সময় লাগছে। তা গরীবদের জন্য চিকিৎসা পরিষেবা খুব ভাল করে দাবি করার আর কোনও জায়গা নেই।

বিগ বি-র সুস্থতা কামনা করে পোস্ট করাতে কোনও আপত্তির কিছু নেই কিন্তু যে মানুষরা পোস্ট করছেন তাদের নিজের বাড়ির লোকেরা ভগবান না করুক যদি আক্রান্ত হয় তারা একই রকমভাবে পোস্ট করবেন তো একই সহানুভূতির সঙ্গে?

নামী তারকাদের জন্য দামী হাসপাতাল আর আমার আপনার মত সাধারণ মানুষরা হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে বেড়াচ্ছে সামান্য চিকিৎসার জন্য। আমাদের দেশে এটাই কি ভবিতব্য?

আরও অন্যান্য খবর