গালওয়ান সংঘর্ষে লড়াই করা বিহার রেজিমেন্টের সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর, পিঠ চাপড়ে জানালেন কুর্নিশ

গালওয়ান চীন-ভারত সংঘর্ষে বীরত্বের অন্যতম নিদর্শন রেখেছিল ভারতীয় সেনার বিহার রেজিমেন্ট। বর্তমানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং রয়েছেন লাদাখে। সেখানেই আজ তিনি গালওয়ান সংঘর্ষে লড়াই করা ১৬ বিহার রেজিমেন্ট এর সঙ্গে দেখা করলেন। পিঠ চাপড়ে তাঁদের সাহসকে তিনি কুর্নিশ জানালেন।

চীনের সঙ্গে বিগত দু’মাস ধরে ভারতের সীমান্ত বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। চীন ভারতের বিরুদ্ধে লাদাখ সীমান্ত এলাকায় বিনা প্ররোচনায় আক্রমণ হানায় ভারতের ২০ জন জওয়ান শহীদ হন, যদিও ভারতও পাল্টা যোগ্য জবাব দেয় যার জেরে ৪৩ জন চীনা সেনা আহত ও নিহত হয়েছে। চীন ধীরে ধীরে সীমান্তে সেনাবাহিনীর পরিমাণ বাড়াতে থাকে, ভারতও উপযুক্ত সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে। সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই গত শুক্রবার লাদাখ সফরে আসেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তার আগে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ঘুরে গিয়েছেন লাদাখ থেকে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রথমে স্ট্যাকনা ফরোয়ার্ড পোস্টে যান। পরে যান প্যাংগং সো লেকের কাছে লুকুং ফরোয়ার্ড পোস্টে।‌ সেখানে ভারতীয় জওয়ানদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলাপচারিতাও সারেন।

https://twitter.com/DefenceMinIndia/status/1284751248483168257

রবিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এর কার্যালয় তরফের আলাপচারিতার একটি ভিডিও টুইট করা হয় সেইসঙ্গে ক্যাপশন দেওয়া হয়, “লাদাখের লুকুংয়ের ফরোয়ার্ড পোস্টে সফরের সময় বিহার রেজিমেন্টের জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন।”

যদিও এই ভিডিওতে আলাদা ভাবে এই কথা উল্লেখ করা হয়নি ১৬ বিহার রেজিমেন্ট এর কথা তবে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে রাজনাথ সিংকে একজন সেনার সঙ্গে পরিচয় করাচ্ছেন একজন উচ্চ পদস্থ সেনা আধিকারিক, তাঁকে বলতে শোনা যায়, গালওয়ান উপত্যকায় যে সেনারা নিজেদের প্রাণ ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করেছিলেন ইনি তাঁদের মধ্যে একজন।

তারপর সেই জওয়ানের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন রাজনাথ। তাঁর পিঠ চাপড়ে দেন। ধন্যবাদও জানান। যদিও প্রবল হাওয়ার কারণে রাজনাথ সিং কী বলেছেন তা স্পষ্ট শোনা যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন গালওয়ানে ভারতীয় এবং চীনা সেনার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ঘ হয়েছিল। অতর্কিতে ভারতীয় সেনার উপর আক্রমণ হেনেছিল প্রচুর চীনা সেনা। তাঁদের হাতে ছিল পেরেক লাগানো লোহার রড। অন্যদিকে ভারতীয় সেনারা তখন সেই সময় নিরস্ত্র ছিলেন। তা সত্ত্বেও পিছু হঠেননি ১৬ বিহার রেজিমেন্টের জওয়ানরা। তাঁদের সঙ্গে ছিল ৩ পঞ্জাব, ৩ মিডিয়াম রেজিমেন্ট এবং ৮১ ফিল্ড রেজিমেন্ট। পাঁচ ঘণ্টার বেশি লড়াইয়ের পর চীনা ফৌজিদের চুরমার করে ফেরত পাঠিয়েছিলেন তাঁরা। ভারত হারিয়েছিল তাঁর ২০ জন বীর সন্তানকে। চীনের তরফে সরকারিভাবে হতাহতের সংখ্যা অবশ্য জানানো হয়নি। তবে বেসরকারি হিসাবে বলছে সংখ্যাটা ৪৩ এর আশেপাশে।

RELATED Articles

Leave a Comment