মারা গেলেন দলীয় কর্মীর নিগৃহীতা বোন, মমতা রাজ্যে বিচার অমিল, বিস্ফোরক বয়ান অনুপম হাজরার

শেষ রক্ষা হল না, চোপড়ার সোনারপুরের ধর্ষিতা ১৬ বছরের কিশোরী মারা গেলেন আজ সকালে। এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিজেপি সদস্যরা। বিজেপির শীর্ষ যুবনেতা অনুপম হাজরা বরাবরই দলীয় কর্মী ও তাঁদের পরিবারের উপর শাসক শিবিরের অত্যাচারের ব্যাপারে সরব হন, এবারেও তার অন্যথা হল না। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন যে, “বিজেপি বুথ সভাপতি নেতার বোন হওয়ার কারণেই কি মমতা রাজ্যে বিচার পেলেন না নিগৃহীতা?”

কিছুক্ষণ আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুপম হাজরা পোস্ট করেছেন, “সোনারপুরের ১৬ বছরের এক কিশোরী চোপড়ায় ফিরোজ আলি নামক এক যুবক দ্বারা ধর্ষিত হয়; ধর্ষিতা আজ সকালে মারা যান। তাকে কি স্থানীয় বিজেপি বুথ সভাপতির বোন হওয়ার মূল্য দিতে হল? সেই ধর্ষিতা কিশোরী এমন এক রাজ্যের বাসিন্দা যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা গৃহমন্ত্রী কিনা স্বয়ং একজন মহিলা এবং যে মুখ্যমন্ত্রী কিনা মহিলা সশক্তিকরণ এর উদ্দেশ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্প প্রণয়ন করে বিশ্বের স্বীকৃতি অর্জন করে এসেছেন। যে রাজ্যের নারী সুরক্ষার এই হাল, যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ধর্ষণকে ছোট ঘটনা বলে আখ্যা দেন, সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কন্যাশ্রী প্রকল্প কে সামনে রেখে বিদেশি বিচারকদের বোকা বানিয়ে কীভাবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছিল এখন সেটাই একটা বড় প্রশ্ন।”

বস্তুত অনুপম হাজরার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি যথারীতি ভাইরাল হতে শুরু করেছে। বিরোধী শিবির এটাই প্রশ্ন তুলছে যে দিদির রাজ্যে বিজেপি করা কি অপরাধ? এখানে কি শুধু তার একনায়কতন্ত্রই চলবে? বিজেপি কর্মীদের পরিবারকে প্রাণ দিতে হবে? এখানে কি বিজেপি কর্মীর পরিবারের সুবিচার পাওয়ার কোনরকম অধিকার নেই? তিনি নিজে একজন মহিলা সেখানে একজন নাবালিকাকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হলো তার কোনো প্রতিকার কি হবে না?

যদিও এই ব্যাপারে শাসকদলের এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি তবে গেরুয়া শিবির যে এই ব্যাপারে চুপ করে থাকবে না সেটা অনুপম হাজরার পোস্ট থেকেই স্পষ্ট। যত বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসছে ততই দলীয় তরজা ও সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে। যার ভুক্তভোগী হচ্ছেন রাজনৈতিক কর্মীদের পরিবার।

RELATED Articles

Leave a Comment