চরম অনটনে সদ্যজাত কন্যাসন্তানকে হত্যা করলেন মা। প্রথমেই তাঁর ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে। এরপর আর এক সন্তানের পেট চালানোর ক্ষমতা নেই তাঁর। তাই সন্তানকে মেরে ঝোপে ফেলে দিয়ে এলেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নদিয়ার গয়েশপুরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রাণকৃষ্ণ রায় ও বাসন্তদেবী নামে এক দম্পতির তিনসন্তান। ১ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। কিন্তু গত বছর ফের গর্ভবতী হন বাসন্তীদেবী। এরপর শুরু হয় লকডাউন। স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করতেন প্রাণকৃষ্ণবাবু। কিন্তু লকডাউনে তাঁর কাজ চলে যায়। এমনকি সংসার চালাতে বাসন্তীদেবী মুড়ি ভাজার যে কাজ করতেন তাও লকডাউনে কমে গেছে।
এইসময় দুধের শিশু সংসারে একটা বাড়তি পেট হয়ে দাঁড়ায়। তাকে খাওয়ানোর মতো ক্ষমতা আর তাদের নেই। রবিবার বাড়ির পাশে ঝোপে স্থানীয়রা প্লাস্টিকে মোড়া একটি শিশুর দেহ উদ্ধার করেন। এর পর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। এরপর পুলিশ বাসন্তীদেবীকে জেরা করলে তিনি বলেন, লকডাউনে স্বামীর কাজ নেই। সংসারে খুব অভাব। তাই শনিবার রাতে তিনি তার মেয়েকে খুন করে পাশের ঝোপে ফেলে দিয়ে চলে আসেন। রবিবার তিনি শিশুর দেহটি পুঁতে দেবেন ভেবেছিলেন কিন্তু তার আগেই দেহটি উদ্ধার করে স্থানীয়রা। আপাতত দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে মা’কে। তবে কন্যাসন্তান হওয়ার দরুন কি মরতে হলো শিশুটিকে? নাকি সত্যিই সংসারে খাওয়া-পড়ার অভাবের চলতে এই খুন। তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





