মানুষ চাইলে যে অসাধ্য সাধন করতে পারে তা আরও একবার প্রমাণিত হলো এই অসমীয়া তরুণীর অধ্যবসায় দেখে। জন্ম থেকেই এই অসমীয়া তরুণী প্রিন্স গগৈয়ের দুই হাত নেই। কিন্তু তাতে কুছ পরোয়া নেহি। দুই পা দিয়েই হাসপাতালে চাকরি করে সংসার সামলান এই তরুণী। শুধু তাই নয় তিনি নিজের পায়ের আঙ্গুল দিয়ে তুলির টানে ক্যানভাসে দারুণ সব ছবি আঁকেন।
আসামের ছোট শহর সোনারির বাসিন্দা প্রিন্স। জন্ম থেকেই বিকলাঙ্গ সে, তার দুই হাত নেই। কিন্তু তাতেও মনের জোর হারাননি এই তরুণী। জীবন হয়তো তাকে শারীরিকভাবে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে কিন্তু তিনি মানসিকভাবে এতটাই দৃঢ় যে তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার স্বাভাবিক জীবন-যাপনে কোন বাধা সৃষ্টি করতে পারে নি।এই অতিমারি চলাকালীন তিনি গুয়াহাটির একটি বেসরকারি হাসপাতালের চাকরিতে যোগ দিয়েছেন এবং নিজের পরিবারকে অর্থনৈতিক ভাবে দাঁড়াতে সাহায্য করছেন।
তিনি হাসপাতালে ফোন তোলা থেকে শুরু করে রোগীদের নাম লেখার সবই করেন নিজের পায়ের আঙুলের সাহায্যে। যারাই প্রিন্সকে দেখেন তারাই অভিভূত হয়ে যান এবং তাঁকে কুর্নিশ জানান। অবসর সময়ে প্রিন্স গান গাইতে পছন্দ করেন এবং তুলির টানে ক্যানভাসে ছবি আঁকেন। কয়েকদিন আগে তিনি গণেশের একটি মূর্তিও তৈরি করেন। এই প্রতিমাটি বিক্রি হয় ৩০ হাজার টাকায়।
প্রিন্স স্বপ্ন দেখেন যে তিনি বিভিন্ন প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে একটি আর্ট স্কুল খুলবেন ভবিষ্যতে। নিজের পেইন্টিং বিক্রি করে তিনি যে অর্থ পাবেন সেই অর্থ দিয়ে তিনি আর্ট স্কুল খুলতে চান। তিনি এই স্কুলে প্রতিবন্ধী শিশুদের শেখাতে চান যে প্রতিবন্ধকতা আসলে আমাদের মনে থাকে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই আমাদের স্বাভাবিক জীবন-যাপনে যেন বাঁধা না হতে পারে, নিজের জীবনের এই মন্ত্র তিনি ছড়িয়ে দেবেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে এমনটাই স্বপ্ন দেখেন আসামের এই সাহসী তরুণী।






