দেশজুড়ে চলছে সাধারণ ধর্মঘট! বাংলায় বিভিন্ন স্টেশনে আটকানো হল ট্রেন, রাজ্যজুড়ে চলছে দেদার পথ অবরোধ

আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বাম-কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকে দেশজুড়ে চলছে সাধারণ ধর্মঘট। ইতিমধ্যেই বামেরা দাবি করেছে, দেশজুড়ে ২৫ কোটি মানুষ এই ধর্মঘটে সামিল হয়েছে।

বাংলায় বনধের চিত্রটা ঠিক কেমন? চলুন দেখে নেওয়া যাক-

এদিন সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পথে নেমেছেন বাম এবং কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা। পথ অবরোধ-মিছিল করে ধর্মঘটকে সফল করার আহ্বান জানাচ্ছেন তাঁরা। কলকাতার ধর্মতলা, ব্যারাকপুর, সিউড়িতে বিক্ষোভ দেখিয়েছে বাম ও কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনগুলি।

রাজ্যজুড়ে ব্যাপকহারে চলছে পথ অবরোধ, আটকানো হচ্ছে ট্রেন।‌ শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় লোকাল ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। মেন লাইনেও বিভিন্ন স্টেশনে আটকানো হয়েছে ট্রেন। বেলা যত বাড়ছে, ধর্মঘট ততোই বেশি করে সফল করার জন্য শক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে।

ধর্মঘটের সমর্থনের ধর্মতলায় পথ অবরোধ করেছে বামেরা। পোড়ানো হয়েছে কুশপুতুল।ইতিমধ্যেই, ব্যারাকপুরে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। বীরভূমের সিউড়িতে সকাল থেকেই ধর্মঘটকে সফল করার উদ্দেশ্যে মিছিল বের করেছে বাম এবং কংগ্রেস। আটকানো হয়েছে বাস। সিউড়ি বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কর্মচারীরা।

যাদবপুরে সকাল ছ’টা থেকেই শুরু হয়েছে বামপন্থীদের মিছিল। যাদবপুর এইট-বি বাসস্ট্যান্ড থেকে সুলেখা পর্যন্ত মিছিল করা হচ্ছে। তবে আপাতত কোনও অবরোধ করা হয়নি। বরং বারেবারে এইট-বি বাসস্ট্যান্ড থেকে সুলেখা পর্যন্ত সেই মিছিল ঘুরছে। এইট-বি বাসস্ট্যান্ডেও স্বাভাবিকভাবে বাস চলাচল করছে। যাত্রীরাও যাতায়াত করছেন। তাঁদের আপাতত আটকানো হয়নি।

শিয়ালদহ মেন লাইনে মোটের উপর স্বাভাবিকভাবে ট্রেন চলাচল করছে। ইচ্ছাপুর ট্রেন আটকে দিয়েছেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। দক্ষিণ শাখায় ব্যাহত হয়েছে পরিষেবা। ডায়মন্ড হারবার লাইনের একাধিক জায়গায় ওভারহেড তারে কলাগাছ ফেলে দেওয়ার এবং বিক্ষোভের খবর মিলেছে। সুভাষগ্রামে আটকানো হয়েছে ট্রেন।

বিশেষজ্ঞ মহল বলছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধর্মঘটকে সামনে রেখে নিজেদের শক্তি ঝালিয়ে নিচ্ছে বাম ও কংগ্রেস।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম এবং কৃষি আইন-সহ নানান নীতির প্রতিবাদে এবং ৭ দফা দাবিতে দেশ জুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি। সেই কর্মসূচিকে ঘিরে বেশ কয়েক দিন ধরেই রাজ্য জুড়ে মিছিল এবং পথসভা করেছেন বাম এবং কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা। তবে এদিন ধর্মঘটীদের আসল পরীক্ষা।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাম কংগ্রেসের এই ধর্মঘটে ধর্মঘটীদের দাবিদাওয়াগুলিকে সমর্থন জানিয়েছে তৃণমূল। তবে তাঁরা এও স্পষ্ট করে দিয়েছে বনধের সমর্থনে পথে নামবেন না তৃণমূল নেতৃত্ব। অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি-র তরফে জানানো হয়েছে, এই বন্‌ধের বিরোধিতায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে পদ্ম শিবির।

জানা গেছে, এই ধর্মঘটে সামিল হয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িস অ্যাসোসিয়েশন’ (এআইবিইএ)। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) এবং ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক ছাড়া অধিকাংশ ব্যাঙ্কের কর্মী-অফিসাররাই ইউনিয়নের অধীনস্থ। বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত, পুরনো বেসরকারি এবং কয়েকটি বিদেশি ব্যাঙ্কের চার লাখ কর্মী এআইবিইএয়ের সদস্য। আর তাই মনে করা হচ্ছে আজকের ধর্মঘটে দেশজুড়ে রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির পরিষেবা ধাক্কা খেতে পারে। ব্যাহত হতে পারে এটিএম পরিষেবাও।

RELATED Articles