অনেকের মতেই রাহুল গান্ধী হয়ত কংগ্রেসের যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে উঠতে পারেন নি। কিন্তু না, জওহরলাল নেহরুর ধারা অব্যাহত রেখেই ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখকে চীন ও পাকিস্তানের হাতে তুলে দিল কংগ্রেস।
গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংশোধিত কৃষি বিলের বিরোধিতা করতে আসাম কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি টুইট করা হয়। সেই টুইটে ভারতের বিকৃত মানচিত্রের ছবি শেয়ার করেন আসাম কংগ্রেস। এই বিকৃত মানচিত্রে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখই উধাও। এর অর্থ লাদাখকে ভারতের অন্তর্গত বলে মনেই করে না কংগ্রেস। এর আগেও ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের সময়ও ঠিক এই একই ধরণের কাজ করেছিলেন জওহরলাল নেহরু। লাদাখে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দেন তিনি চীনকে।

সালটা ১৯৫৯, নেহরু রাজ্যসভায় জানান যে চীন বেশ কিছু সময় ধরে ভারতের মধ্যে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। লাদাখের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বদিকের অঞ্চল বেশ কঠিন, পাহাড়ি অঞ্চল। এই অঞ্চলে আঞ্চলিক প্রতিকূলতার কারণে পুলিশ চেকপোস্টও সেভাবে মোতায়েন করা সম্ভব হয়নি। এর জেরেই চীন সীমান্তরেখা পার করে ভারতের এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রবেশের চেষ্টায় রয়েছে। ভারতে প্রবেশের জন্য আক্সাই চীনের মধ্যে দিয়ে একটি রাস্তাও তৈরি করে চীন যা সিনকিয়াং-তিব্বত হাইওয়ে নামে পরিচিত।
নেহরু বলেন, এই পরিস্থিতি দেখাশোনার জন্য পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয় লাদাখের এই অঞ্চলে কিন্তু তাদের আটক করে চীন। এরপর চীন দাবী করতে থাকে যে ভারতের এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আসলে তাদেরই। এরপর ১৯৬২ সালে ভারত-চীন সংঘাতের সময় চীনের সৈন্যবল নিয়ে ভারতের উপর আক্রমণ করে চীন। কিন্তু সেই সময় দাঁড়িয়ে হঠাৎ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ভারত চীনের সঙ্গে পেরে ওঠে না। এর জেরে ভারতীয় সৈন্যদের উপর প্রভাব বিস্তার করে নেয় চীন। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়াতে জওহরলাল নেহুরু ব্যর্থ হন। উপরন্তু, এই যুদ্ধ চলাকালীন তিনি ভারতেই ছিলেন না। এর ফলে লাদাখের ওই অঞ্চলের উপর বেআইনিভাবে কবজা করে চীন।
এবার সেই ধারা অব্যাহত রেখে কংগ্রেস ফের একবার সেই কাজই করল। ভারতের মানচিত্র বিকৃত করে লাদাখকে চীন ও পাকিস্তানের অন্তর্গত করল।
তবে কংগ্রেসের তরফে এ ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও কংগ্রেস নেতা শশী থারুর নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি ভারতের একটি মানচিত্রের ছবি টুইট করেন যেখানে লাদাখ ভারতের মানচিত্রে ঠাঁই পায়নি। কিন্তু বিতর্কের মুখে পড়ে সেই টুইটটি মুছে দেন তিনি।

তার দু’মাস আগেও তিনি আরও একটি ভারতের মানচিত্রের ছবি শেয়ার করেন। সেখানেও লাদাখকে চীন ও পাকিস্তানের অংশ করা হয়।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার