কৃষি আইনকে সমর্থন করায় বিতর্কের মুখে সানি দেওল, ক্ষুব্ধ কৃষকেরা, নিরাপত্তা বাড়ানো হল সানির

কৃষি আইনের বিরোধিতায় বর্তমানে সারা দেশে আগুন জ্বলছে। গোটা দেশ ফুঁসছে এই আগুনে। হরিয়ানা, পঞ্জাব-সহ দেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠনগুলি এই একজোট হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে কেন্দ্রের নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এই নতুন আইন কৃষকদেরই উপকার করবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই আন্দোলন তুলে নিতে নারাজ কৃষকেরা। এরই মধ্যে এই কৃষি আইনকে সমর্থন করে কেন্দ্রের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অভিনেতা তথা বিজেপি সাংসদ সানি দেওল। কিন্তু খোদ পঞ্জাবের সাংসদ হয়ে তিনি কেন কৃষকদের সমর্থন করছেন না, এই নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। এই জন্যই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্র নেওয়া হয়েছে।

ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়া হবে সানি দেওলকে। ২ জন কম্যান্ডো ও পুলিশকর্মী-সহ মোট ১১ জন তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।

দিনকয়েক আগেই কৃষি আইনকে সমর্থন করে একটি টুইট করেন সানি। এই টুইট নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। টুইটে তিনি লেখেন, “সকলের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছ, এটা কেন্দ্র ও কৃষকদের মধ্যেকার বিষয়এর মধ্যে অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করবেন না। দুই পক্ষ আলোচনা করে কোনও একটা সিদ্ধান্তে নিশ্চয় পৌঁছবে। কিছু মানুষ আছেন, যারা এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন। তারা কৃষকদের সম্পর্কে ভাবছেন না। নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করছেন। আমি বলতে চাই, আমি কেন্দ্র ও কৃষক, উভয়ের পাশেই আছি”।

পঞ্জাবের সাংসদ হয়ে কর্ষকদের সমর্থন না করায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন পঞ্জাবের ছেলে হয়েও কেন তিনি কৃষকদের দিকটি ভেবে দেখছেন না? অনেকে আবার তার টুইটের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছে যে তিনি নাকি দ্বিমুখী ও কূটনীতিবিদ। আবার অনেকে তাকে কটাক্ষ করে বলেন যে সানি মেরুদণ্ডহীন, কারোর পাশে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই তার। এই ধরণের ব্যক্তিকে নেতা হওয়ার টিকিট দেওয়া বন্ধ করা উচিত বলেও অনেকেই দেগেছেন সাংসদ-অভিনেতাকে।

এই ধরণের মন্তব্যের জেরে আরও উত্তপ্ত হতে পারে পরিস্থিতি। তাই গুরুদাসপুরের সাংসদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর রেখেছে প্রশাসন। এই কারণেই সানি দেওলের নিরাপত্তা বাড়ানো হল। এরপর থেকে ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পাবেন সাংসদ-অভিনেতা এমনটাই জানা গিয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

আরও অন্যান্য খবর