আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন এ যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শতবর্ষের এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’-এর স্লোগান তুললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বললেন ভারত আজ এমন এক রাস্তায় চলছে, যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও বিভেদ নেই।
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয় নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, , “ভারতের শক্তি, সৌন্দর্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রদের কাছে তুলে ধরাটা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তব্য। আপনাদের কাঁধে জোড়া দায়িত্ব। নিজেদের সম্মান বাড়ানো এবং দেশের প্রতি নিজেদের কর্তব্য পালন। দেশের সমৃদ্ধির জন্য সব স্তরে উন্নতি হওয়া বাধ্যতামূলক। প্রত্যেক নাগরিকের বিভেদ ভুলে দেশের উন্নতিতে ভাগীদার হওয়া উচিত। দেশ এমন একটা রাস্তায় এগোচ্ছে, যেখানে সব নাগরিক নিজের সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে নিশ্চিন্ত। আজ শুধু ধর্মের ভিত্তিতে কোনও নাগরিককে বঞ্চিত করা হয় না। এটাই ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’ মতবাদের ভিত্তি।”
মুসলিম প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মুসলিম বিকাশের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী, জানান, “বিশেষ করে মুসলিম মহিলাদের শিক্ষার জন্য বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। গত ৬ বছরে ১ কোটি মুসলিম মহিলাকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, “স্বচ্ছ ভারত যোজনার আওতায় সব স্কুল-কলেজে নতুন টয়লেট তৈরি হওয়ায় মুসলিম মেয়েদের মধ্যে স্কুলছুটের সংখ্যা কমেছে।” প্রধানমন্ত্রী ভাষণে এদিন উঠে আসে তিন তালাক প্রথার কথাও। তাঁর দাবি, ১০০ বছর আগে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের হাত ধরে যে আধুনিক মুসলিম সমাজ গঠনের কাজ শুরু হয়েছিল, তিন তালাক প্রথা বাতিল করে এই সরকার সেই সংকল্পকেই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।”
নিজের বক্তৃতায় কোনওভাবেই বিদ্বেষ নয়, বরং বারবার করে মুসলিমদের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগাযোগের কথাই তুলে ধরতে চেয়েছেন।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, শেষবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী। সেটা ১৯৬৪ সাল। তারপর গত সাড়ে পাঁচ দশকের মধ্যে আর কোনও প্রধানমন্ত্রী এএমইউয়ের কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।





