রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই যে সবসময়ই অব্যাহত, তা এতদিনে বেশ স্পষ্ট। চিঠিতেই হোক বা সরাসরি, একে অপরকে দাগতে কসুর করেন না কেউই। এবার রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের বিরুদ্ধে এক বড় পদক্ষেপ করল শাসকদল। জগদীপ ধনখড়ের প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিল তৃণমূল। স্মারকলিপিতে তৃণমূল দাবী করেছে যে, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় লাগাতার সাংবিধানিক সীমান্তরেখা লঙ্ঘন করেছেন। এমনকি, তিনি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানছেন না বলে অভিযোগ তোলে তৃণমূল।
আজ বুধবার, তৃণমূল ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই স্মারকলিপির কথা জানান তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁর দাবী, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদে উন্নীত হওয়ার পর থেকেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিরোধিতায় নেমেছেন জগদীপ ধনখড়। একাধিক বিষয়ে তিনি রাজ্য সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতা করেছেন। তিনি সাংবিধানিক নীতি মানছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন সুখেন্দুশেখর রায়।
এছাড়াও, তিনি বলেন যে, রাজ্যপাল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও উপেক্ষা করছেন। বিভিন্ন সময় টুইটে মন্ত্রিসভার সমালোচনা করছেন। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চাইতে বলেছেন তিনি।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে যে, সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল রাজ্য সরকারের মাধ্যমে নিজের কর্তব্য নির্বাহ করতে পারে। তাঁর যদি কোনও বিষয়ে কোনও আপত্তি থাকে, তবে তিনি তা রাজ্য সরকারকে জানাতে পারেন। এভাবে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করার অধিকার তাঁর নেই। তিনি নিজের সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচ ব্যবহারের মাধ্যমে একাধিক বার একাধিক সরকারী বিভাগের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। পুলিশকেও হুমকি দিচ্ছেন তিনি, এমন ঘটনা নজিরবিহীন বলে দাবী করা হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে।
এভাবে একাধিকবার সাংবিধানিক নির্দেশিকা লঙ্ঘন করায় সংবিধানের ১৫৬ (১) অনুসারে রাষ্ট্রপতিকে তাঁর সম্মতি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে তৃণমূল। রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে এই স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। তবে এই স্মারকলিপি নিয়ে এখনও পর্যন্ত জগদীপ ধনখড়ের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।





