বিগত বছরের মে মাস থেকেই ভারত-চীন সম্পর্ক নিম্নমুখী হয়েছে। এতে ইন্ধন জুগিয়েছে গালোয়ান সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। সেই সময় যুদ্ধ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত পর্যন্ত পাওয়া যায় দুই দেশের তরফে।
পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য দুই পক্ষের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা। পূর্ব লাদাখে লালফৌজের আগ্রাসন নিয়ে বরাবর ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা এখন আর গোপন কোনও খবর নয়। বিশ্বের এই বিশাল শক্তি ভারতের পাশে থাকায় রীতিমতো ক্ষিপ্ত চীন।
ভারত-চীন বিবাদে ঢুকতে নিষেধ করে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দেয় চীন।
আর এবার ফের একবার উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে আমেরিকাকে ফের হুমকি দিল জিনপিংয়ের দেশ। নিজেদের বক্তব্যে বেজিং স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যায় কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আমেরিকায় এখন জো বাইডেনের নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।সম্প্রতি ভারত-চীন সীমান্ত বিবাদ নিয়ে নিজের বক্তব্য রাখেন ভারত থেকে বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ জাস্টার। নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সামরিক সম্পর্কের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, ভারতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমেরিকার মতো অবদান অন্য কোনও দেশের নেই। লাদাখের মতো সংবেদনশীল জায়গায় ভারতের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত মঞ্চে সহযোগিতা করছে ওয়াশিংটন। বেজিংকে বিদ্ধ করে তিনি খোলাখুলি বলেন, “সীমান্তে চীনের আগ্রাসী গতিবিধি প্রতিহত করতে মার্কিন সহযোগিতা ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, চলতি মাসেই ভারতে নিজের কার্যকাল শেষে দেশে ফিরে যাবেন কেনেথ। কিন্তু বিদায়বেলায় ফের চীনের উপর চাপ বাড়ালেন তিনি।
আর তার এই বক্তব্যের পর ফের নতুন করে ভারত-চীন সম্পর্কে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করে।
তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই বুধবার পাল্টা তোপ দাগেন ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত সান ওয়েইডং। তিনি অভিযোগ করেন, চীনকে নিশানা করতে ভারতকে হাতিয়ার করছে আমেরিকা। এই মর্মে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে এই চৈনিক প্রতিনিধি বলেন, “সম্প্রতি চীনের বিরুদ্ধে আমেরিকার বেশ কিছু অবাঞ্ছিত মন্তব্য আমাদের কানে এসেছে। আমরা জানাতে চাই, ভারত-চীন সীমা বিবাদে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। আমরা আশা করছি, অন্য দেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক কোনও বিশেষ দেশকে (চীন) নিশানায় নেবে।





