কিছু ঘটনা সাহস দেয়। খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে ফিরে আসার অনুপ্রেরণা জোগায়। এমনই একটি ঘটনা ঘটলো এবার ভারতীয় সেনাবাহিনীতে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের থেকে বেশি অনিশ্চয়তার জীবন বোধ হয় এই দেশে আর কারোরই নেই। যাঁরা প্রতিনিয়ত আমাদের জীবনের জন্য সীমান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাঁদের নিজেদের জীবনেরই গুরুত্ব খুব সামান্য।
তেমনই কুলগামে শহীদ হয়েছিলেন এক ভারতীয় সেনা। হাসপাতালে শয্যায় শেষ ইচ্ছায় জানিয়েছিলেন স্ত্রীকে দেখতে চান ভারতীয় সেনায়।
আর এবার স্বামীর শেষ ইচ্ছার কথা রাখতে চলেছেন স্ত্রী। ২০১৮ সালের এপ্রিলে সন্ত্রাসবাদী হামলায় আহত হয়েছিলেন সেনা জওয়ান দীপক নেয়নওয়াল। প্রায় ৪০ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন দীপক। মে মাসে মৃত্যু হয় দীপকের।
পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষটার শেষ কথাটার দাম রাখার জেদ চেপে বসেছিল স্ত্রী জ্যোতি নেয়নওয়ালের মধ্যে। তখনই নিজেকে দেশের জন্য সঁপে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। আর কঠিন এই চলার পথে প্রয়াত স্বামীই তাঁর অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন।
স্বামীর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে সেনাবাহিনীতে এবার যোগ দিচ্ছেন দীপকের স্ত্রী ৩২ বছর বয়সি, দুই সন্তানের মা জ্যোতি। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, চেন্নাইয়ের অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে প্রায় এক বছর প্রশিক্ষণ নেন তিনি।
নিজের মুখে জ্যোতি জানিয়েছেন, বুকে এবং মেরুদণ্ডে মারাত্মক আঘাত ছিল স্বামীর। দেহের নিচের অংশ অসাড় হয়ে গিয়েছিল। দিল্লির হাসপাতালে ৪০ দিন চিকিৎসা হয়। সেই সময় দীপক আমাকে বলেছিল, ওঁ যদি আর না বাঁচে তাহলে আমি যেন সেনাবাহিনীতে যোগ দিই। ওটাই ওঁর শেষ ইচ্ছা ছিল। আমি ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে কৃতজ্ঞ যে ওঁরা আমাকে এই সুযোগ দিয়েছে।
জ্যোতি আরও জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী এবং আমার পরিবার পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ৪০ দিন ভারতীয় সেনা আমাকে হাসপাতালে স্বামীর কাছে থাকা অনুমতি দিয়েছিল। সেদিন বুঝেছিলাম ওঁরা সেনার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের পাশেও দাঁড়ায়। দীপক আমাকে বলেছিল সেনায় যোগ দেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে।
তবে জীবনে চলার পথের মতোই কঠিন ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীতে প্রবেশ করাও। চতুর্থবারের চেষ্টায় এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। পাশাপাশি মা হিসেবেও নিজের কর্তব্য পালন করতেন তিনি। দীপকের বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ ঘুম থেকে উঠে শরীরচর্চা করতে যেত জ্যোতি। ইংরাজি বলার দক্ষতা বাড়ানোর জন্যও অনেক পরিশ্রম করেছে।





