আজ চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট-এর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ২০০৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে যোগদান করা আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবির। তাঁর পরিবর্ত হিসেবে ১লা ফেব্রুয়ারি চন্দননগর কমিশনারেটের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন গৌরব শর্মা।
হুমায়ূন কবিরের চাকরির মেয়াদ ছিল চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। কিন্তু তার আগেই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দিলেন তিনি।
সূত্র মারফত খবর বিধানসভা ভোটের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে যোগদান করতে পারেন এই আইপিএস অফিসার। দক্ষিণবঙ্গের একটি আসন থেকে তৃণমূলের হয়ে ভোটে লড়ার ইঙ্গিতও নাকি মিলছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মাস তিনেক আগে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের হাত ধরে রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী অনিন্দিতা দাস কবির।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, আশঙ্কার একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে একাধিক প্রাক্তন পুলিশ অফিসার ও আমলা যোগ দিয়েছেন ঘাসফুল শিবিরে। সেই পথেই কি হাঁটতে চলেছেন সদ্য প্রাক্তন পুলিশ অফিসারও?
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিশেষ পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন হুমায়ুন কবির । যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন থেকে কুখ্যাত “হাত কাটা দিলীপ”কে গ্রেফতার করে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হন তিনি। তবে সে সময় যে সব পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব আচরণের অভিযোগ তুলত তৃণমূল, তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই আইপিএস। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ছবিটা পাল্টে যায়। ক্রমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি।
হুমায়ুন যখন মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করতেন অধীর চৌধুরী। তৃণমূলের জেলা সভাপতির মতো আচরণ করছেন এই পুলিশ অফিসার, এমন অভিযোগ করেছিলেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ। পরে হুমায়ুন কবীরকে চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার করে নিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার তাঁকে যদি তৃণমূলের হয়ে ভোটে লড়তে দেখা যায় তবে খুব একটা আশ্চর্য হওয়ার অবকাশ থাকবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





